বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক পূর্বাচল: গাজীপুরের বুক চিরে জেগে থাকা এক অপার সৌন্দর্যের নাম বেলাই বিল। গাজীপুর সদর, কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ ও শ্রীপুর— এই চার জনপদ স্পর্শ করে বিস্তৃত প্রায় ৪০ বর্গকিলোমিটারের এই বিশাল জলরাশি শুধু প্রাকৃতিক রূপের জন্যই নয়, বরং দেশি মাছের অফুরন্ত ভাণ্ডার ও শাপলার সমারোহের কারণে স্থানীয় অর্থনীতি ও পরিবেশগত ভারসাম্যে এক অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে।
বেলাই বিলে পৌঁছানোর বেশ কয়েকটি পথ থাকলেও নদী ও প্রকৃতির রূপ দেখতে দেখতে যাত্রার সবচেয়ে আকর্ষণীয় রুট হলো গাজীপুরের কালীগঞ্জ হয়ে যাওয়া।
কালীগঞ্জের ঐতিহাসিক গুদারা ঘাট থেকে শীতলক্ষ্যা নদীর শান্ত বুক ছুঁয়ে যখন শামিয়ানা টানানো মাঝারি নৌকাগুলো বিলের দিকে যাত্রা শুরু করে, তখনই উন্মোচিত হতে থাকে গ্রামীণ রূপসী বাংলার অন্য এক দৃশ্যপট। নদী পেরিয়ে সর্পিল এক খালের ভেতর নৌকা প্রবেশ করতেই শুরু হয় ছায়াঘেরা এক রূপকথা।
শীতকালে এ খালের পানি তলানিতে গিয়ে ঠেকলেও বর্ষার দিনে তা কানায় কানায় পূর্ণ থাকে। খালের দুই পাশে করচ, হিজল, সুউচ্চ রেইনট্রি এবং ঘন বাঁশঝাড়ের নিবিড় জটলা চারপাশকে এক শীতল মায়ায় আগলে রাখে। কোথাও কোথাও দুপাশের গাছের ডালপালা মাথার ওপর প্রাকৃতিক চাঁদোয়া তৈরি করে রেখেছে, যেখানে ভরা দুপুরেও নেমে আসে এক রহস্যময় নিঝুম অন্ধকার।
শান্ত জলের ওপর বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, দূর থেকে ভেসে আসা নানা প্রজাতির পাখির ডাক, আর মাথার ওপর দিয়ে কয়েকটা সাধারণ ঝুলন্ত সেতু ও পুরনো রেল সেতুর নিচ দিয়ে পথ চলা— এই পুরো পথজুড়ে তৈরি হয় এক অন্যরকম নীরব প্রশান্তি।
সর্পিল খালের সবুজ মায়া কাটতেই হুট করে নৌকা গিয়ে আছড়ে পড়ে দিগন্তবিস্তৃত বেলাই বিলের সুবিশাল জলরাশিতে। চারপাশে লাল ও সাদা শাপলার মেলা, তাজা দেশি মাছের প্রাচুর্য এবং নীল আকাশের সঙ্গে বিলের পানির মিতালী চোখে পড়ার মতো।
প্রাকৃতিক রূপ ও জীববৈচিত্র্যের কারণে দিন শেষে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য ইট-পাথরের যান্ত্রিকতা ভুলে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার এক মোক্ষম ঠিকানা এই বেলাই বিল।


