ময়মনসিংহ প্রতিনিধি | দৈনিক পূর্বাচল প্রকাশিত: জুলাই ০৬, ২০২৬
ময়মনসিংহের রামকৃষ্ণ মিশন রোড এলাকায় রাজিব আহমেদ রুবেল নামে এক যুবককে ঘরে ঢুকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের জেরে এই হত্যাকাণ্ড বলে স্থানীয়দের গুঞ্জন। পিবিআই ও পুলিশ তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে…
ময়মনসিংহ নগরের রামকৃষ্ণ মিশন রোড এলাকার ছত্রিশবাড়ি কলোনিতে ঘরে ঢুকে রাজিব আহমেদ রুবেল (৪০) ওরফে কাইল্যা রুবেল নামে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার (৫ জুলাই) সকালে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এক নারীকে ধর্ষণের জেরে ওই নারীর সন্তানেরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যা করেছে। তবে পুলিশ বা প্রশাসন এখন পর্যন্ত এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত রুবেল ছত্রিশবাড়ি কলোনিতে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। ওই ঘরে তিনি প্রায়ই বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতেন। তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তার নামে এলাকায় একাধিক মামলা রয়েছে। বিভিন্ন অপকর্মের কারণে স্থানীয় মানুষ তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল।
এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, শনিবার রাতে রুবেল এক নারীকে জোরপূর্বক তার ঘরে নিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। এই ঘটনার জেরে ওই নারীর ছেলেরা রবিবার সকালে রুবেলের ঘরে ঢুকে তাকে জবাই করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের আগে হামলাকারীরা রুবেলের ঘরের সামনে রাখা একটি মোটরসাইকেলেও আগুন ধরিয়ে দেয়, যা এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
এই বিষয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান দৈনিক পূর্বাচল-কে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে পুলিশ গুরুত্বের সাথে কাজ করছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে। বর্তমানে মামলাটি পিবিআই (PBI) তদন্ত করছে। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।”
এদিকে সোমবার (৬ জুলাই) পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, পিবিআই-এর একটি বিশেষ টিম মাঠে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহে কাজ করছে। মাঠের কাজ শেষ হলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা যাবে।
ময়মনসিংহ কতোয়ালী মডেল থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম জানান, রুবেল হত্যার ঘটনায় রবিবার রাতেই একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুর পৌনে একটা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এই মামলার এজাহারভুক্ত ও সন্দেহভাজন ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

