বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবন ঘেরাও ও ‘বালুর ট্রাক’ বিতর্কের সেই পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক পূর্বাচল:

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’র সামনে ‘বালুর ট্রাক’ দিয়ে অবরুদ্ধ করার ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত সেই বহুল আলোচিত নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে অনেকেই একে একটি ‘উপযুক্ত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অনেকের মতে, এই সিদ্ধান্ত আরও আগেই নেওয়া উচিত ছিল।

অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে অত্যন্ত অশোভন ও অপেশাদার আচরণ করেছিলেন এই কর্মকর্তা। ২০১৩ সালের শেষের দিকে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের সামনে বালুর ট্রাক দিয়ে যে ঐতিহাসিক অবরোধ তৈরি করা হয়েছিল, তার নেপথ্যের অন্যতম ভূমিকায় ছিলেন এই কর্মকর্তা।

সেদিন গণমাধ্যমের ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজে দেখা গিয়েছিল, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন যখন গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখন এই পুলিশ কর্মকর্তা অত্যন্ত মারমুখী ও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তার গাড়ির সামনে ও গায়ের ওপর চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তৎকালীন সময়ে বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে এই কর্মকর্তার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “আপনারা আমার বাসার ভেতর কেন ঢুকে গিয়েছেন? দেশ কোথায়? গোপালী? গোপালগঞ্জের নামই বদলে যাবে।” এই ঐতিহাসিক ডায়লগটি তখন দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভুক্তভোগী মহলের দাবি, কেবল বাধ্যতামূলক অবসরই যথেষ্ট নয়; ক্ষমতার অপব্যবহার, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাথে চরম বেয়াদবি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অপরাধের জন্য এই কর্মকর্তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন সংক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 7   +   5   =