নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক পূর্বাচল
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংক ঋণ, জমি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্সসহ কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ সেবা পেতে ই-টিন সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক, তা জানুন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ম অনুযায়ী বর্তমানে দেশের সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের জন্য করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিল। দৈনন্দিন জীবন, আর্থিক লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করতে এখন অনেক ক্ষেত্রেই টিন সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সাধারণত কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ সেবা পেতে ই-টিন সার্টিফিকেট আবশ্যিক, তা নিয়ে এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী বিস্তারিত তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. আর্থিক ও ব্যাংকিং সেবা
-
ব্যাংক ঋণ: ব্যাংক বা যেকোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ লাখ টাকার অধিক ঋণ গ্রহণ করতে হলে টিন সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
-
ক্রেডিট কার্ড: ক্রেডিট কার্ড বা নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকিং সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও এটি প্রয়োজন হয়।
-
এলসি (LC): ব্যবসা বা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আমদানি বা রপ্তানির জন্য লেটার অব ক্রেডিট বা ঋণপত্র স্থাপন করতে।
-
পোস্ট অফিস সঞ্চয়: ডাকঘরে ৫ লাখ টাকার বেশি অংকের সঞ্চয়ী হিসাব বা ডিপোজিট খুলতে।
২. সম্পত্তি ও যানবাহন সংক্রান্ত সেবা
-
জমি বা ফ্ল্যাট নিবন্ধন: যেকোনো ধরনের জমি, প্লট বা ফ্ল্যাট কেনাবেচা এবং দলিল নিবন্ধনের (Registration) সময়।
-
যানবাহন নিবন্ধন: নতুন মোটরযান বা ব্যক্তিগত গাড়ি ক্রয় ও বিআরটিএ-তে নিবন্ধন করতে।
-
ফিটনেস সনদ: তিন চাকার মোটরযানসহ বিভিন্ন যানের ফিটনেস সার্টিফিকেট নেওয়া বা তা নবায়ন করার সময়।
৩. ব্যবসা ও পেশাগত সেবা
-
ট্রেড লাইসেন্স: সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা এলাকা থেকে নতুন ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু কিংবা তা নবায়ন করতে।
-
পেশাজীবী সনদ: চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA), কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CMA), চার্টার্ড সেক্রেটারি এবং এনবিআর তালিকাভুক্ত অন্যান্য পেশাজীবীদের লাইসেন্স বা সদস্যপদ পেতে।
-
কোম্পানি ও অংশীদারি ব্যবসা: কোনো লিমিটেড কোম্পানির পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার হওয়া কিংবা সমবায় সমিতি নিবন্ধন করতে।
-
টেন্ডার বা দরপত্র: সরকার বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের যেকোনো উন্নয়নমূলক বা দাপ্তরিক দরপত্রে (Tender) অংশগ্রহণ করতে।
৪. সামাজিক ও অন্যান্য সেবা
-
নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিংবা সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে প্রার্থী হতে।
-
ক্লাবের সদস্যপদ: ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব বা এ ধরনের অভিজাত ও নিবন্ধিত ক্লাবের সদস্যপদ লাভ করতে।
-
বিবাহ নিবন্ধন: নিকাহ রেজিস্টার বা কাজী হিসেবে সরকারি দায়িত্ব পালন করতে।
-
স্কুলের ভর্তি: অনেক ক্ষেত্রে স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বা ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করাতে অভিভাবকের টিআইএন বা ই-টিন সার্টিফিকেট আবশ্যক হয়।
-
সরকারি চাকরি: ১০ম গ্রেড বা তদূর্ধ্ব পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বা এমপিও (MPO) প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।
ঘরে বসেই যেভাবে ই-টিন তৈরি করবেন
এনবিআরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ই-ট্যাক্স এনবিআর (e-TIN NBR) পোর্টাল ব্যবহার করে খুব সহজেই ঘরে বসে অনলাইনে নিজের ই-টিন সার্টিফিকেট তৈরি করা সম্ভব। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই এই সেবা গ্রহণ করা যায়।


