সুইডেনে প্রবাসী বাঙালিদের গান শোনাচ্ছেন রকস্টার জেমস। সংবাদ সম্মেলনে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের বার্তা ও শেষ দিন পর্যন্ত গান গেয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানান তিনি।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সফল সংগীত সফর শেষে বর্তমানে সুইডেনে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি ও নগর বাউল জেমস। আজ ৬ সেপ্টেম্বর সুইডেন প্রবাসীদের কনসার্টে গান শোনানোর কথা রয়েছে তাঁর। এর আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গান চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই রকস্টার। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।
আশির দশকের শুরুতে চট্টগ্রামে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডের মাধ্যমে সংগীত জীবন শুরু করা জেমস ১৯৮৭ সালে উপহার দেন প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোড’। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মাতিয়ে রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যখনই মঞ্চে দাঁড়াই, মনে হয় সবাই আগেরই শ্রোতা। এর মধ্যে যে সময় বয়ে যাচ্ছে, জেনারেশন চেঞ্জ হচ্ছে—এটা খেয়ালই করিনি। এখন মনে হয় অনেকগুলো জেনারেশনকে হয়তো গান শোনাতে পারছি।’
প্রাপ্তির আশায় নয়, কেবল ভালোবেসে এবং প্যাশন থেকে গান করার আহ্বান জানিয়ে নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে জেমস বলেন, ‘কোনো কিছু পাওয়ার জন্য সংগীত করার কোনো মানে হয় না। গান করতে হবে একদম প্যাশন থেকে, নেশা থেকে। কোনো প্রাপ্তির আশায় যদি কেউ মিউজিক করে, তবে আমি বলব—এখনই বন্ধ করে দাও। মিউজিক করতে হবে নিজের প্রশান্তির জন্য। এর মাধ্যমে যদি কিছু অর্জন হয়, সেটা ভিন্ন কথা। আজ যদি আমি কোনো কিছু নাও পেতাম, তাহলেও গানই করে যেতাম।’
সংগীত নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, আলাদা কোনো পরিকল্পনা না থাকলেও শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত গান গেয়ে যেতে চান তিনি। জেমসের ভাষায়, ‘সংগীত নিয়ে আলাদা কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেই। গান গেয়ে যাব, শেষ পর্যন্ত গাইতেই চাই। এমনকি শেষে গিয়ে যদি দেখি মাত্র একজন দর্শকও আছে, আমি তার জন্যও গান গেয়ে যাব।’
সুইডেনের এই কনসার্টের মধ্য দিয়ে তাঁর দীর্ঘ ইউরোপ সফর শেষ হবে। এরপর আগামী ১২ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে একটি বিশেষ কনসার্টে অংশ নেবেন তিনি। ওই মঞ্চে জেমসের সঙ্গে যৌথভাবে পারফর্ম করবেন পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ফসিলস’-এর ভোকাল রূপম ইসলাম।


