তাইওয়ান প্রণালী ঘিরে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। একদিনে প্রায় ৩০টি চীনা যুদ্ধবিমান ও একাধিক যুদ্ধজাহাজ শনাক্তের দাবি করেছে তাইওয়ান। একই সময়ে তাইওয়ানের কাছাকাছি ফিলিপিন্সে যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপিন্সের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ায় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে শক্তির প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার (২ মে) সকাল পর্যন্ত দ্বীপটির আশপাশে ২৯টি চীনা সামরিক বিমান, ৬টি নৌযান এবং ২টি সরকারি জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে।
তাদের দাবি, এসব বিমানের মধ্যে অন্তত ১৫টি তাইওয়ান প্রণালীর মধ্যরেখা অতিক্রম করে উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোনে প্রবেশ করে।
শুরু থেকেই তাইওয়ান নিজেদের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করে আসছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং তে প্রশাসন চীনা বিমানের এ ধরনের তৎপরতাকে অনুপ্রবেশ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে।
অন্যদিকে, চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। মার্কিন গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, ২০২৭ সালের মধ্যে বেইজিং তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে।
এদিকে একই দিনে আরও ২৮টি চীনা যুদ্ধবিমান যৌথ আকাশ ও সমুদ্র মহড়ায় অংশ নেয়। এসব বিমানের মধ্যে জে-১০, জে-১৬ যুদ্ধবিমান এবং কেজে-৫০০ নজরদারি বিমান ছিল বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক মহড়া ও আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের মাধ্যমে তাইওয়ানের ওপর সামরিক চাপ বাড়ানো এবং তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যাচাই করাই চীনের লক্ষ্য। এতে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়ছে।
এর মধ্যেই ফিলিপিন্সের উত্তরাঞ্চলীয় বাতানেস দ্বীপে যৌথ মহড়ায় অত্যাধুনিক অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপিন্স। ‘নেমেসিস’ নামের এই মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার দূরের সমুদ্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানের কাছাকাছি এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন চীনকে কৌশলগত বার্তা দেওয়ারই অংশ।

