কোরবানির ঈদ মানেই টেবিলে টেবিলে গরম ধোঁয়া ওঠা গরুর মাংসের নানান পদের রাজত্ব। ঝাল ঝাল মাংসের রেজালা, কালা ভুনা কিংবা গরুর চাপের স্বাদে বুঁদ হয়ে ঈদে কম-বেশি সবাই একটু বেশিই মাংস খেয়ে ফেলেন। তবে রসনা তৃপ্তির এই মহাআয়োজনে কেবল রসিয়ে খেলেই চলবে না, খাওয়ার পরের কিছু ভুল অভ্যাস কিন্তু আপনার শরীরের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিটি খাবারেরই নিজস্ব হজম প্রক্রিয়া বা পাচন ক্ষমতা রয়েছে—কারো কম, কারো বেশি। তাই এক পদের ভরপেট খাবারের পর অন্য কোন খাবারটি মুখে তুলছেন, তা নিয়ে একটু সাবধান হওয়া জরুরি।
বিশেষ করে গরুর মাংস খাওয়ার পরপরই অত্যন্ত লোভনীয় কিছু খাবার থেকে নিজেকে শত হাত দূরে রাখতে হবে। এর মধ্যে এক নম্বরেই রয়েছে দুধ কিংবা দুধ দিয়ে তৈরি যেকোনো পুষ্টিকর ও মুখরোচক খাবার। ভোজনরসিকদের মতে, ঝাল ঝাল মাংসের পর শেষ পাতে একটু মিষ্টি মুখ না হলে যেন পুরো খাওয়াটাই মাটি! আর ঈদের দিনে ডেজার্ট হিসেবে দুধের পায়েস, জর্দা, ফিরনি কিংবা পুডিং তো থাকবেই। কিন্তু সাবধান! মাংসের পরপরই এই দুগ্ধজাত খাবারে চামচ দেওয়া মানেই নিজের অজান্তে শরীরে রোগবালাইকে দাওয়াত দেওয়া।
পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, মাংস ও দুধ—দুটি খাবারেই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন। যখন আপনি গরুর মাংস খাওয়ার পরপরই দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খান, তখন শরীরে একসঙ্গে অতিরিক্ত প্রোটিনের চাপ পড়ে। আমাদের পরিপাকতন্ত্র বা পাচন ক্ষমতা হঠাৎ এত ভারী প্রোটিনের ধাক্কা সহজে সহ্য করতে পারে না। ফলে পেট ও লিভারের ওপর বাড়তি ধকল যায়, যা পরিপাকতন্ত্রকে ক্রমশ দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্ত করে তোলে।
যেহেতু মাংস এবং দুধ দুটি খাবারই হজম হতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় নেয়, তাই এগুলো পেটে গিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে কাজ করতে শুরু করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের পেটের ওপর। ফলে বুক জ্বালাপোড়া, গ্যাসের সমস্যা কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
শুধু তাই নয়, এই দুই ভারী খাবারের বৈরি মিলনে রক্তের চাপ বেড়ে হাই ব্লাড প্রেশারের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক অ্যালার্জি, ত্বকের নানা রোগ এবং এমনকি পেটে আলসারের মতো জটিল রোগেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তাই এই ঈদের আনন্দকে বিষাদে রূপ দিতে না চাইলে মাংস খাওয়ার পরপরই ভুলেও দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া চলবে না। আর যদি লোভ সামলাতে না পেরে বা ভুলবশত খেয়েই ফেলেন, তবে বিছানায় অলস শুয়ে না থেকে ঘরের মধ্যে বা বারান্দায় কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন, যাতে হজম প্রক্রিয়া কিছুটা গতি পায়।
তবে সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো, মাংসের ভারী খাওয়া-দাওয়া শেষ করার অন্তত দুই ঘণ্টা পর দুধ বা মিষ্টিজাতীয় ডেজার্ট খাওয়া। এতে আপনার রসনা তৃপ্তিও হবে পূর্ণ, আর শরীরটাও থাকবে একদম চনমনে ও সুস্থ!

