কাজুবাদামের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না বান্দরবানের কৃষক

বান্দরবানের রুমা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলতি মৌসুমে ব্যাপক হারে কাজুবাদাম উৎপাদন হলেও সিন্ডিকেট চক্র বাজার নিয়ন্ত্রণের কারণে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না স্থানীয় কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতেই একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কম দামে কাজুবাদাম কিনে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, মাঠ পর্যায়ে কাজুবাদামের চাহিদা ও বাজারমূল্য বেশি থাকলেও কিছু প্রভাবশালী আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করছে। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে লোকসানে তাদের উৎপাদিত কাজুবাদাম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

স্থানীয় একাধিক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সারা বছর পাহাড়ে কষ্ট করে কাজুবাদাম উৎপাদন করি। কিন্তু মৌসুম এলে কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে দেয়। আমরা বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করি। এতে আমাদের পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এক ক্ষুব্ধ কৃষক বলেন, ‘গত বছর প্রতি মণ কাজুবাদাম ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছি। কিন্তু এ বছর সিন্ডিকেটের কারণে সেই দাম হঠাত্ করেই কমে গেছে। এখন কেউ ৫ হাজার টাকা বলছে, আবার কেউ মাত্র ৪ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত দাম দিচ্ছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও আমরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি না। এতে কৃষকরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষিপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নজরদারি না থাকায় প্রতি বছরই কৃষকরা এমন শোষণের শিকার হচ্ছেন। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের তদারকি বৃদ্ধি, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা চালু এবং বাজার মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরিদুল আলম বলেন, রুমার পাহাড়ি এলাকায় পানির সংকটের কারণে অনেক সময় কাজুবাদামের ফুল ও ফল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে কৃষকদের উন্নত ফলন নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও সঠিক পরিচর্যা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। তবে বাজারে দামের বিষয়ে কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের সঙ্গে ব্যবসায়ীরা জড়িত—এমন তথ্য তার জানা নেই। তবে কৃষকদের সঙ্গে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসদাচরণ করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ের রুমা বাজারের একজন ব্যবসায়ী মো. ওসমান গনি বলেন, ‘কাজুবাদামের বর্তমান বাজারমূল্য নিয়ে এখনো কোনো স্থিতিশীলতা আসেনি। চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত দাম নির্ধারণ না হওয়ায় আমরাও কৃষকদের কাঙ্ক্ষিত মূল্য দিতে পারছি না।’

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 10   +   10   =