সেই পুলিশের এসআই প্রত্যাহার

কক্সবাজারের চকরিয়ায় যুবকের বাড়ি থেকে প্রেমিকাকে উদ্ধার করতে গিয়ে দুজনকেই লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আহত যুবক মারা যাওয়ার গুজবে পুলিশের ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করে ধাওয়া দিয়েছে স্থানীয়রা।

শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

লাঠি দিয়ে পেটানোর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চকরিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আরকানুল ইসলাম। কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

১৯ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, একটি বসতঘরে এসআই আরকান এক তরুণীকে অনবরত পিটিয়ে যাচ্ছেন এবং সেসময় ঘটনাস্থলে অন্য পুলিশ সদস্যরাও ছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঈদগাঁও উপজেলার এক তরুণী চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী এলাকার নুরুল আমিনের (২৪) সাথে প্রেমের সম্পর্কের জেরে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসেন।

নুরুল আমিনের মা বলেন, ‘মেয়ের মা ও বাবা গতকাল শুক্রবার আমার বাড়িতে এসেছিল। উভয় পরিবারের সম্মতিতে দেনমোহর নির্ধারণ করে তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত মেয়েপক্ষের কয়েকজনের পছন্দ না হওয়ায় তারা চকরিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।’

অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার বিকেলে চকরিয়া থানা পুলিশের একটি দল মেয়েটিকে উদ্ধার করতে যায়। কিন্তু তরুণীটি কোনোভাবেই পুলিশের সাথে আসতে রাজি হননি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে থানা থেকে এসআই মো. আরকানুল ইসলামের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা মেয়েটিকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে একপর্যায়ে লাঠিপেঠা শুরু করে।

পুলিশের এই লাঠিপেটা থেকে প্রেমিককে বাঁচাতে প্রেমিকা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পুলিশের পিটুনিতে স্থানীয় নুরু মাঝির ছেলে নুরুল আমিন অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

মুহূর্তের মধ্যে নুরুল আমিনের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। উত্তেজিত এলাকাবাসী পুলিশকে ধাওয়া দেয় এবং তাদের ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে নুরুল আমিনের পরিবারের দাবি গুরুতর আহত নুরুল আমিনকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই আরকানুল ইসলাম ‘আমি ওসি স্যারের নির্দেশনায় অভিযানে গিয়েছি’ বলে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেনের মুঠোফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাশ জানান, একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে উদ্ধার করতে গেলে স্থানীয় লোকজনের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে এবং দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ভিকটিম উদ্ধারের এই অভিযানে পুলিশের কোনো সদস্যের গাফিলতি বা দোষত্রুটি প্রমাণিত হলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 0   +   8   =