সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি: ‘পানির ওপর হাত দিলে কেটে ফেলা হবে’, ভারতকে পাকিস্তানের কড়া হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, দৈনিক পূর্বাচল:

সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক চরমে। ‘প্রাপ্য পানির ওপর হাত দিলে হাত কেটে ফেলা হবে’—ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুংকার দিলেন পাকিস্তানের শীর্ষ মন্ত্রী মুসাদিক মালিক। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।

ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়ে পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা এখন চরমে পৌঁছেছে। চুক্তি নিয়ে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে ভারতের নাম উল্লেখ না করে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী মুসাদিক মালিক। তিনি সাফ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ আঘাত হানতে এলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারকে সঙ্গে নিয়ে ইসলামাবাদে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

পানির অধিকার নিয়ে পাকিস্তানের কঠোর অবস্থান

সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক প্রতিবেশী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরোক্ষ সমালোচনা করে বলেন, “একটি প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী পানির কলটি নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং বলছেন যে তিনি পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও যেতে দেবেন না। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, দেশের ৫০ শতাংশ কর্মসংস্থান এবং ২৫ শতাংশ অর্থনীতি এই কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কেউ আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে এভাবে জিম্মি করতে পারে না।”

এরপরই চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, “আমাদের প্রাপ্য পানির ওপর যদি কেউ হাত বাড়ায়, তবে সেই হাত কেটে ফেলা হবে। এটি আমরা মুখে বলছি না, অতীতেও প্রমাণ করেছি।”

একই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জোর দিয়ে বলেন, ১৯৬০ সালের সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি একটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক চুক্তি। কোনো পক্ষই এককভাবে এই চুক্তি বাতিল, স্থগিত বা সংশোধন করতে পারে না। তিনি আরও জানান যে পাকিস্তানের এই অবস্থানের পক্ষে আন্তর্জাতিক মহলেরও সমর্থন রয়েছে।

উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেকার এই উত্তেজনা নতুন রূপ নেয় গত বছর ২০২৫ সালে কাশ্মীরের পাহলগামে এক সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর। ওই ঘটনার পর নয়াদিল্লি সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত (Abeyance) করার ঘোষণা দেয় এবং পাকিস্তানকে পানি দেওয়া বন্ধের ইঙ্গিত দেয়। ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল সম্প্রতি জানান যে ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানে যাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করতে কাজ করছে ভারত।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ১৯৬০ সালের এই চুক্তিকে চিরস্থায়ী বা জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে ভাবার কোনো সুযোগ নেই এবং সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকদের সিন্ধুর পানি পেতে দেওয়া হবে না।

এর আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও পানির সংকটকে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে ভারতের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ‘যুদ্ধে’ যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। ফলে দুই দেশের অববাহিকায় পানির এই বিরোধ এখন দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 1   +   4   =