প্রথম বিশ্বকাপে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ১২০ মিনিট কাঁপিয়ে দিল আটলান্টিকের দ্বীপদেশটি
স্পোর্টস ডেস্ক, দৈনিক পূর্বাচল: ম্যাচ শেষে স্কোরবোর্ডে লেখা থাকল জয়ী দলের নাম আর্জেন্টিনা, আর পরাজিত দল কেপ ভার্দে। কিন্তু মাঠের ৯০ কিংবা ১২০ মিনিটের লড়াই কি কেবলই একটি সংখ্যার স্কোরলাইন? স্কোরলাইনে কেউ এগিয়ে থাকলেই কি পুরো ম্যাচ জেতা হয়ে যায়, আর পিছিয়ে থাকলেই কি হার? ফুটবলপ্রেমীদের মনে আজ এই প্রশ্নটাই বড় করে তুলে দিল আটলান্টিক মহাসাগরের বুক থেকে উঠে আসা আফ্রিকার পুঁচকে এক দেশ।
আজ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল কেপ ভার্দে। শক্তির বিচারে দুই দলের ব্যবধান আকাশ-পাতাল। অথচ মাঠে নামার পর সেই সমীকরণ যেন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিল আফ্রিকার এই লড়াকু দলটি। টুর্নামেন্টের হট ফেভারিট ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের যেভাবে টানা ১২০ মিনিট নাকানিচুবানি খাইয়ে গেল তারা, তাতে কে বলবে এটি তাদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ!
খেলার প্রথমার্ধ থেকেই আর্জেন্টিনার বিশ্বসেরা আক্রমণভাগকে বোতলবন্দী করে রাখে কেপ ভার্দের জমাট রক্ষণ। উল্টো কাউন্টার অ্যাটাকে আলবিসেলেস্তেদের রক্ষণভাগে বারবার কাঁপুনি ধরিয়েছে তারা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের ম্যাচ পেরিয়ে খেলা যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়, তখনও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চোখে-মুখে ছিল স্পষ্ট ভয়ের ছাপ।
যদিও অভিজ্ঞতার জোরে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি নিজেদের পকেটে পুরেছে আলবিসেলেস্তেরা, কিন্তু মাঠের খেলায় আসল নায়ক ফুটবল ইতিহাসের এই নবাগতরাই। স্কোরবোর্ডের হিসেবে আর্জেন্টিনা হয়তো ম্যাচটি জিতেছে এবং পরের রাউন্ডে পা রাখছে, কিন্তু ফুটবল রোমান্টিকদের হৃদয়ে চিরদিনের জন্য জায়গা করে নিল কেপ ভার্দে। হার দিয়েও কীভাবে বিজয়ী হওয়া যায়, ফুটবল বিশ্বকে আজ সেটাই শিখিয়ে গেল আটলান্টিকের এই অপ্রতিরোধ্য প্রতিনিধিরা।

