আন্তর্জাতিক ডেস্ক | দৈনিক পূর্বাচল
ঢাকা, ২৯ জুন ২০২৬
শেয়ারবাজারের উত্থান-পতনে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার কয়েক দিনের মাথায় শীর্ষ ধনীর খেতাব ধরে রেখেও বিলিয়নিয়ারের কাতারে নামলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দরপতনে কমেছে এই বিপুল সম্পদ। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।
শেয়ারবাজারের চরম উত্থান-পতনে মুহূর্তের মধ্যেই বদলে যেতে পারে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের সম্পদের হিসাব। তারই সর্বশেষ বড় উদাহরণ তৈরি করলেন বিশ্বের এক নম্বর শীর্ষ ধনী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। ইতিহাসের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ (১ লাখ কোটি ডলারের মালিক) হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানেই তাঁর সম্পদ আবার বিলিয়নিয়ারের (বিলিয়ন ডলার) ঘরে নেমে এসেছে।
সম্প্রতি মার্কিন পুঁজিবাজারে মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স (SpaceX) এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা (Tesla)-র শেয়ারের দরপতনের কারণে এই নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে। শেয়ারের মূল্য কমে যাওয়ায় মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদ কমেছে প্রায় ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি।
ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার ইতিহাস ও বর্তমান সম্পদ
আন্তর্জাতিক বিজনেস ম্যাগাজিন ‘ফোর্বস’-এর রিয়েল-টাইম বিলিয়নেয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, সম্পদ কিছুটা কমলেও ইলন মাস্ক এখনো বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৪৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
উল্লেখ্য, চলতি জুন মাসেই মার্কিন শেয়ারবাজারে স্পেসএক্স-এর বহুল প্রতীক্ষিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও (IPO) তালিকাভুক্ত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। স্পেসএক্স-এর এই ঐতিহাসিক মহোৎসবের ওপর ভর করেই বিশ্বের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন মাস্ক। তবে মার্কিন প্রযুক্তি বাজারে সাম্প্রতিক সংশোধন ও শেয়ারের দামের ওঠানামার কারণে তাঁর সম্পদের মূল্য কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
মাস্কের সম্পদের মূল উৎস ও অংশীদারিত্ব
ইলন মাস্কের অঢেল সম্পদের প্রধান ভিত্তি হচ্ছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত বিভিন্ন উচ্চ-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ রয়েছে স্পেসএক্স এবং টেসলায়।
-
স্পেসএক্স (SpaceX): এই মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩৮ শতাংশ শেয়ারের একক মালিক ইলন মাস্ক।
-
টেসলা (Tesla): বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা এই জায়ান্ট কোম্পানিতে তাঁর রয়েছে প্রায় ১১ শতাংশ মালিকানা।
এ ছাড়া তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’ (xAI), ভূগর্ভস্থ টানেল নির্মাণকারী সংস্থা ‘দ্য বোরিং কোম্পানি’ এবং মানুষের মস্তিষ্কে চিপ স্থাপনকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘নিউরালিংক’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যতম প্রধান অংশীদার।
এক্সএআই ও স্পেসএক্স-এর একীভূতকরণ
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত স্পেসএক্স চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মাস্কের অন্য প্রতিষ্ঠান এক্সএআই (xAI)-কে অধিগ্রহণ করে। ওই চুক্তির মাধ্যমে একীভূত নতুন প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০২২ সালে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে অধিগ্রহণ করা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘টুইটার’ (বর্তমানে এক্স)-কেও একীভূত করা হয়েছিল এক্সএআই-এর সঙ্গে।
বিশ্লেষকদের মতামত
আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, ইলন মাস্কের সম্পদের সিংহভাগই নগদ অর্থ বা ব্যাংক ব্যালেন্স নয়; বরং বিভিন্ন বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে থাকা তাঁর শেয়ারের বাজারমূল্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে প্রযুক্ত খাতের সূচক ও শেয়ারের দামের সামান্য পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই নিয়মিত ওঠানামা করে তাঁর মোট সম্পদের এই বিশাল অঙ্ক।

