নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলম (এস আলম) ও তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের প্রভাবকে কেন্দ্র করে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ বাণিজ্য ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকায় এস আলমের বাসার গৃহকর্মী মর্জিনা আক্তারের স্বামী সাদ্দাম হোসেনকে কোনো ধরনের নিয়োগ পরীক্ষা, পূর্ব অভিজ্ঞতা বা শিক্ষাগত সনদ যাচাই ছাড়াই সরাসরি সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাধারণ নিয়মে একজন কর্মকর্তা পর্যায়ে যোগ দিয়ে ধাপে ধাপে পদোন্নতির মাধ্যমে এসপিও হতে ৮ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লাগে। সেখানে সাদ্দাম হোসেন সরাসরি এই পদে নিয়োগ পাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে। তাঁর মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা, তবে ভাতা-সহ মাসিক আয় এক লাখ টাকার বেশি বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মর্জিনা আক্তারের মাধ্যমে একইভাবে অন্তত ১৩ জনকে ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এস আলমের নিজ এলাকা পটিয়া থেকে হাজারো লোককে ‘সিভি ড্রপ’ পদ্ধতিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে। এভাবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেরই প্রয়োজনীয় যোগ্যতা যাচাই করা হয়নি বলে অভিযোগ।
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকে প্রায় ১১ হাজার জনকে কোনো লিখিত পরীক্ষা বা যথাযথ যাচাই ছাড়া নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দেশের ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মর্জিনা আক্তারের ব্যাংক হিসাবে অন্তত এক কোটি টাকা জমা থাকার তথ্য পেয়েছে বলে জানা গেছে, যা তাঁর আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নিয়োগের পর সাদ্দাম হোসেনকে প্রথমে চট্টগ্রামের দক্ষিণ জোনে পদায়ন করা হয়। পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাঁকে চকবাজার শাখায় বদলি করা হয়। ব্যাংকের অভ্যন্তরে তিনি ‘এস আলমের লোক’ হিসেবে পরিচিত বলেও জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, পদায়নের পর দীর্ঘ সময় তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকতেন না।
ব্যাংকিং খাতে এমন অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।


