আলমডাঙ্গায় সরকারি সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ: কৃষকদের প্রতিরোধ, কৃষি কর্মকর্তাকে মারধর

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা:চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিসিআইসি ডিলার ও আওয়ামী লীগ নেতা লিটু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সরকারি সার কালোবাজারে পাচারের অভিযোগ। কৃষকদের সার আটকে বিক্ষোভ, ঘটনাস্থলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সিয়াম মারধরের শিকার।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাস ইউনিয়নে সরকারি বরাদ্দের সার কালোবাজারে পাচারের অভিযোগ উঠেছে এক বিসিআইসি (BCIC) ডিলারের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ডিলার লিটু বিশ্বাস স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত। অবৈধভাবে অন্য ইউনিয়নে সরকারি সার পাচারের এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিক্ষুব্ধ কৃষকদের তৎপরতায় সারভর্তি চালানটি হাতেনাতে উদ্ধার করা হলেও, ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার মারধরের শিকার হয়েছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সিয়াম।

সার পাচারের চেষ্টা ও কৃষকদের প্রতিরোধ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আইলহাস ইউনিয়নের সাধারণ চাষিদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভর্তুকির সার গোপনে নাগদাহ ইউনিয়নের জাহাপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মিঠুর কাছে বিক্রি করা হচ্ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় কৃষকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে পথরোধ করেন এবং সারবোঝাই পরিবহনটি আটকে দেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিপুল সংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

কৃষকদের ক্ষোভ ও কৃষি কর্মকর্তাকে মারধর

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউনিয়নের প্রকৃত চাষিরা যখন চাহিদামতো প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না, তখন সরকারি বরাদ্দের সার এভাবে গোপনে অন্যত্র পাচার করায় কৃষকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। উত্তেজিত জনতা জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাতে থাকেন।

খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সিয়াম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে জনতা। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতার একাংশ ওই কৃষি কর্মকর্তার ওপর চড়াও হয় এবং তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থার আশ্বাস

সার পাচারের অভিযোগের বিষয়ে বিসিআইসি ডিলার লিটু বিশ্বাস কিংবা অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মিঠুর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

তবে এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি ভর্তুকির সার নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি বা কালোবাজারি বরদাশত করা হবে না।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 5   +   4   =