‘আমরা জলদস্যুদের মতো কাজ করি

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেআইনিভাবে ইরানি জাহাজ জব্দ করার বিষয়টিকে প্রকাশ্যে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তারা যে ‘জলদস্যুদের মতো আচরণ করেন’ তা নিয়ে নির্লজ্জভাবে দম্ভোক্তি করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বাঘাই উল্লেখ করেন, এটি কোনো সাধারণ অনিচ্ছাকৃত ভুল বক্তব্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের একটি সরাসরি এবং জোরালো স্বীকারোক্তি।

ইরানের এই মুখপাত্র আরও বলেন, ওয়াশিংটন যে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে, এই মন্তব্য তারই একটি অকাট্য দালিলিক প্রমাণ। এই পরিস্থিতিতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র এবং সংস্থাটির মহাসচিবকে এ ধরনের প্রকাশ্য আইন লঙ্ঘনের বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ না করে বরং তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক নৌ-সীমানায় স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইরানি বন্দর ঘিরে চলমান অবরোধ পরিস্থিতিতে মার্কিন নৌবাহিনী ‘জলদস্যুর মতো’ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডায় এক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি একটি সামরিক অভিযানের বর্ণনা দিতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, আমরা জাহাজের ওপর নেমে পড়ি এবং সেটি দখলে নিই। আমরা কার্গো নিয়েছি, তেল নিয়েছি—এটি খুবই লাভজনক ব্যবসা। এ সময় সমর্থকদের উল্লাস করতে দেখা যায়। এর মধ্যেই তিনি আরও যোগ করেন, তবে আমরা কোনো খেলা খেলছি না; অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এটি করছি।

তার এই মন্তব্য এমন একসময়ে এসেছে, যখন ইরান অবরোধ ও সামুদ্রিক পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে বৈশ্বিক তেল-গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি নিয়ে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর ফি আরোপের পরিকল্পনা করছে, যা আন্তর্জাতিক নৌ-আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ইতোমধ্যে তেহরান কার্যত এই জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তাৎক্ষণিকভাবে ইরানও পাল্টা হামলা শুরু করে। জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা চালায় ইরানি বাহিনী। এতে অগ্নিগর্ভে পরিণত হয় গোটা মধ্যপ্রাচ্য। সেই সঙ্গে বন্ধ করে দেয় বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি। এতে গোটা বিশ্বে জ্বালানি অস্থিরতা দেখা দেয়।

এরপর টানা ৩৯ দিন যুদ্ধ শেষে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। গত ৮ এপ্রিল থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় বসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়। সাময়িক ওই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলে একরকম একক সিদ্ধান্তেই অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকে দুইপক্ষ আলোচনার টেবিলে না বসে কথা লড়াই অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও তেহরানকে ফের আলোচনায় বসাতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 4   +   6   =