জীবননগরে স্ত্রীকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যার চেষ্টা, ঘাতক স্বামী গ্রেফতার

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি:

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে শ্বশুরবাড়িতে এসে ঘুমন্ত স্ত্রীকে ধারালো কাঁচি দিয়ে কুচিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে ঘাতক স্বামী রাতুল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় গৃহবধূ হাসপাতালে ভর্তি, স্বামী গ্রেফতার। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বালিহুদা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে এসে ঘুমন্ত স্ত্রীকে ধারালো কেঁচি দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে এক পাষণ্ড স্বামী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক স্বামী রাতুল হোসেনকে (২৫) গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। অন্যদিকে গুরুতর আহত গৃহবধূ রোজিনা খাতুন (১৮) বর্তমানে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার (২৮ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বালিরহুদা ষষ্ঠীতলা গ্রামে এ লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।

গ্রেফতারকৃত রাতুল হোসেন পার্শ্ববর্তী দর্শনা থানাধীন গড়াইটুপি গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে। আহত রোজিনা খাতুন বালিরহুদা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক নজরুল ইসলামের মেয়ে।

পারিবারিক কলহ ও বাবার বাড়িতে আশ্রয়

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে রাতুল হোসেনের সাথে রোজিনা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ বিভিন্ন অজুহাতে রোজিনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল রাতুল। স্বামীর অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রায় দুই মাস আগে রোজিনা বাবার বাড়িতে চলে আসেন এবং সেখানেই অবস্থান করছিলেন।

আপ্যায়নের সুযোগে গভীর রাতে হামলা

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার রাত ৮টার দিকে রাতুল হোসেন হঠাৎ করেই তার শ্বশুরবাড়িতে আসেন। জামাই আসার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে যথাযথ আপ্যায়ন করেন এবং রাতে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। পরে স্বামী-স্ত্রী একই ঘরে ঘুমাতে যান। গভীর রাত আনুমানিক ২টার দিকে রাতুল পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘর থাকা ধারালো কাঁচি (কাইঁচি) দিয়ে ঘুমন্ত রোজিনার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। কাঁচির আঘাতে রোজিনার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।

এ সময় রোজিনার আত্মচিৎকারে তার বাবা-মা এবং প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে এসে রক্তাত্ব অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন এবং ঘাতক স্বামী রাতুলকে হাতেনাতে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাতুলকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থা

জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. হাসিব জানান, ভোর ৫টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় রোজিনাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ও রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টের পর আঘাতের প্রকৃত গভীরতা ও অভ্যন্তরীণ ক্ষতির মাত্রা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আব্দুস শুকুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সঠিক সময়ে পরিবারের লোকজন টের পেয়ে ঘরে না ঢুকলে হয়তো মেয়েটিকে বাঁচানোই সম্ভব হতো না। সে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছে।”

আইনি ব্যবস্থা

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলাইমান শেখ জানান, এই নৃশংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ ভুক্তভোগী গৃহবধূর সাথে কথা বলে জবানবন্দি নিয়েছে। আজ রোববার দুপুরের দিকে অভিযুক্ত আসামি রাতুল হোসেনকে চুয়াডাঙ্গা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 3   +   4   =