দৈনিক পূর্বাচল ডেস্ক
দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচিত তারকা শাকিব খান অভিনীত ‘রকস্টার’ সিনেমাকে ঘিরে দর্শক মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সিনেমার কিছু দৃশ্য ও প্রচারণামূলক উপস্থাপনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক দর্শক। তাদের দাবি, চলচ্চিত্রে মাদকসংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তরুণদের কাছে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে পারে।
বিশেষ করে শাকিব খানের মতো জনপ্রিয় একজন অভিনেতার পর্দার চরিত্র ও জীবনধারা তরুণ প্রজন্মের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সমালোচকরা। তাদের মতে, দেশের শীর্ষ তারকাদের অভিনীত চলচ্চিত্রে সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
তবে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, কোনো সিনেমায় মাদক, অপরাধ কিংবা সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয় দেখানো মানেই সেটিকে উৎসাহিত করা নয়। গল্পের প্রয়োজনে এসব উপাদান ব্যবহার করা হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—চলচ্চিত্রটি শেষ পর্যন্ত দর্শকদের কী বার্তা দিচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে অনেক দর্শক প্রশ্ন তুলেছেন, সংবেদনশীল বিষয়বস্তু থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের চলচ্চিত্র কীভাবে সেন্সর বা প্রদর্শনের অনুমোদন পায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেই চলচ্চিত্রগুলো মূল্যায়ন করা হয়। তবে কোনো চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু নিয়ে জনমনে বিতর্ক সৃষ্টি হলে তা নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক।
বক্স অফিস প্রসঙ্গেও চলছে নানা আলোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন, ‘রকস্টার’ প্রত্যাশিত সাড়া ফেলতে পারেনি। যদিও কোনো চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সফলতা বা ব্যর্থতা নির্ধারণে আনুষ্ঠানিক আয়-ব্যয়ের তথ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, দর্শকদের রুচি ও প্রত্যাশা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে শুধু তারকাখ্যাতি নয়, শক্তিশালী গল্প, নির্মাণমান ও নতুনত্বই একটি চলচ্চিত্রের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হয়ে উঠছে।
মতামত
মাদক সমাজের জন্য একটি গুরুতর সমস্যা। তাই চলচ্চিত্রে এ ধরনের বিষয় উপস্থাপনের ক্ষেত্রে নির্মাতাদের সচেতন থাকা যেমন জরুরি, তেমনি দর্শকদেরও একটি শিল্পকর্মকে সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে চলচ্চিত্রটি সমাজে কী প্রভাব ফেলছে, সেটিই হওয়া উচিত আলোচনার মূল বিষয়

