৭ খুনের এক যুগ: রায় কার্যকর দাবিতে মানববন্ধন

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন ঘটনার এক যুগপূর্তি হলেও আদালতের রায় কার্যকর হয়নি। রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জজ কোর্ট চত্বরে আইনজীবীরা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় নিহত পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন।

আইনজীবীদের মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য এনসিপি নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন।

মানববন্ধনে এমপি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সাত খুনের কর্মকাণ্ড ছিল ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে। গডফাদার শামীম ওসমান সেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সেসব করণে তখন সাত খুনের বিচার সম্পন্ন হয়নি। এখন সময় এসেছে বিচারকাজ সম্পন্ন করার। মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করতে হবে।

সাত খুন মামলার প্রধান আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ঘটনার দিন র‌্যাব ১১ সিও লে. কর্নেল (বরখাস্তকৃত) তারেক সাঈদের নির্দেশে মেজর আরিফ হোসেন ও এমএম রানার নেতৃত্বে  ফতুল্লা স্টেডিয়ামের পাশে কাউন্সিলর নজরুলসহ পাঁচজনকে ধস্তাধস্তি করে তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে র‌্যাব সদস্যদের মাইক্রোবাসে তুলছিল। তখন সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার সেই দৃশ্য দেখতে পেয়ে মোবাইলে ভিডিও করার সময় র‌্যাব তাকে এবং তার গাড়ি চালককেও তুলে নিয়ে যায়। তাদের প্রত্যেককে মাথাসহ গলা পর্যন্ত পলিথিনে মুড়িয়ে নি:শ্বাস বন্ধ করে হত্যা করা হয়।

তিনি বলেন, গভীর রাতে সাতটি মৃতদেহের শরীরে ৩৬টি করে ইট বেঁধে শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীর মোহনায় ডুবিয়ে দেয়। দুই দিন পর সেই লাশ আবার ভেসে উঠে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে র‌্যাব জড়িত বিষয়টি জানতে পেরে আইনজীবী হিসেবে আমি ও অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ঈসমাইল হাইকোর্টে একটি রিটপিটিশন দায়ের করে র‌্যাব কর্মকর্তাদের এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দাবি জানাই। সে সময় এ মামলার আইনজীবী হিসাবে আমাকে গুম খুন করার হুমকি দেওয়া হয়; কিন্তু আমি পিছপা না হয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাই। কিন্তু ফ্যাসিস্ট সরকারের এক প্রভাবশালী কাউন্সিলর নুর হোসেনের পরিকল্পনায় ও র‌্যাব কর্মকর্তা তারেক সাঈদ আওয়ামী লীগের সাবেক এক মন্ত্রীর আত্মীয় হওয়ার কারণে মামলাটি আপিল বিভাগে নয় বছর ধরে ঝুলে আছে। ফ্যাসিস্ট  সরকার আইনকে নিজস্ব গতিতে চলতে দেয়নি। আমরা আশাকরি বর্তমান সরকার দ্রুত মামলাটি নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখে কার্যকর করবে।

সাত খুন মামলার বাদী নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি জানান, দেখতে দেখতে ১২টা বছর কেটে গেল; কিন্তু খুনিদের রায় কার্যকর হয়নি। আমার বিচারের আশায় কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি ফুরিয়ে যাচ্ছে। সাতটি পরিবারে তাদের উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে দিশেহারা। অসহায় পরিবারগুলো অর্থকষ্টে দিনযাপন করছে। আমাদের শুধু একটি চাওয়া বর্তমান সরকারের  কাছে যেন দ্রুত বিচার শেষ করে খুনিদের ফাঁসি কার্যকর করে। এই বিচারটুকু যেন জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারি।

আদালত সাত খুনের সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগ নেতা নুর হোসেন, তৎকালীন র‌্যাব-১১ সিও লেফটেনেন্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লেফটেনেন্ট কমান্ডার এমএম রানাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও সাতজনকে ১০ বছর করে এবং দুইজনকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ আপিল করলে দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৮ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রাখেন। আর বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেন। আপিল বিভাগে প্রায় ৯ বছরেও এর নিষ্পত্তি হয়নি।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 8   +   9   =