রাজনীতি ডেস্ক, দৈনিক পূর্বাচল:
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানকে লক্ষ্য করে তীব্র কটূক্তি করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি মুফতি আমির হামজা। বগুড়ার মাহফিলে দেওয়া তার এই বিস্ফোরক বক্তব্য নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। পড়ুন বিস্তারিত।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজা। সম্প্রতি বগুড়ায় আয়োজিত একটি ধর্মীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় রাশেদ খানের নাম উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুফতি আমির হামজা। তিনি বলেন, “কিছু মানুষ আজ আলেম-ওলামাদের পেছনে লেগেছে। তোষামোদ ও চাটুকারিতা করে এই রাষ্ট্রীয় পদটি যদি সে আজ না পেত, তবে হয়তো তাকে রাস্তায় ঝাড়ু দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হতো। এমনকি তার তো রাস্তায় ঝাড়ু দেওয়ার মতো যোগ্যতাও নেই। মানুষ কি তাকে সেই কাজেও নেবে? অথচ এমন এক ব্যক্তি আজ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।”
আলেমদের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার জবাবে পাল্টা আক্রমণ করে এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, “ওরা আজ আলেমদের চরিত্র নিয়ে কথা বলে! অথচ ওদের নিজেদের মোবাইল ফোনগুলো যদি একটু পরীক্ষা করে দেখা যায়, তবে এমন সব তথ্য বের হবে যে মুখে ‘নাউজুবিল্লাহ’ বলা ছাড়া উপায় থাকবে না। ওদের নিজেদের চরিত্র বলে আসলে কিছুই অবশিষ্ট নেই।”
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান ও এমপি আমির হামজার মধ্যে ভার্চুয়াল দ্বন্দ্ব চলছে। রাশেদ খান তার ফেসবুক পেজে আমির হামজার কথিত একটি বিতর্কিত অডিও ও ভিডিও ফাঁসের দাবি করার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বগুড়ার মাহফিলে আমির হামজার এই বিস্ফোরক বক্তব্যকে রাশেদ খানের সেই অভিযোগের পাল্টা জবাব ও প্রত্যাখ্যান হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন তুমুল বিতর্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।


