জাকাত ব্যবস্থাপনা ‘সুশৃঙ্খলা এবং কার্যকর’ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

জাকাত ব্যবস্থাপনা ‘সুশৃঙ্খলা এবং কার্যকর’ করতে ধর্মমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার সচিবালয়ে জাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান।

তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ছিলেন। কীভাবে জাকাতের অর্থ আরও কার্যকরভাবে বণ্টন করা যায়, জাকাতের মাধ্যমে কীভাবে দারিদ্র্য বিমোচন করা যায়, এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

“প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়গুলোতে অবহিত হয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে যথাযথ নির্দেশনা দিয়েছেন।”

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পরে আহমাদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, “জাকাতের অর্থে স্কিল ডেভেলপ করে বা স্বাবলম্বী করে স্থায়ী দারিদ্র্য বিমোচনের পথে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের কিছু অভিজ্ঞতা আছে। সেই জায়গা থেকে আমরা কিছু পরামর্শ, কিছু মত দেওয়ার চেষ্টা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে।

“সেই মতগুলো তিনি (প্রধানমন্ত্রী) শুনে খুবই খুশি হলেন এবং সরকারের জায়গা থেকে কীভাবে আরো ইফেক্টিভলি করা যায় এবং জাকাত বণ্টন আরো সুশৃঙ্খলভাবে করা যায়, সেই সম্ভাবনাগুলোকে খুঁজে বের করার জন্য তিনি মাননীয় ধর্মমন্ত্রী মহোদয়কে এবং অন্যদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। মন্ত্রী মহোদয় তাদের জায়গা থেকে কাজ করবেন ইনশাল্লাহ।”

আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘‘আপনারা জানেন, আস সুন্না ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আমরা জাকাত নিয়ে কাজ করি গত ৬/৭ বছর । শুধু গত এক বছরের হিসেব অনুযায়ী আমাদের মাত্র ১৩ কোটি টাকা খরচ করে আমরা ২১০০ বেকার তরুণ-তরুণীকে পৃথকভাবে স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন সেই এক সময়ের বেকার তরুণরা গত এক বছরে ৪২ কোটি টাকা কামাই (আয়) করেছে। তার মানে প্রতিবছর এটা আস্তে আস্তে বাড়বে বৈই কমবে না।”

তিনি বলেন, “বৈঠকে একটা কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সেখানে আমাকেও থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন। আমি উনাকে বিনয়ের সাথে যদিও বলেছি যে, এখানে বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব আছেন, আরও অনেকে আছেন তারপরেও তার একান্ত অনুরোধে ইনশাল্লাহ আমি হয়ত থাকার চেষ্টা করব।

“আমি আমার জায়গা থেকে যে প্রস্তাবটা দিয়েছি, সেটা হল, এখন যেভাবে মানুষ যার যার মত জাকাত দিচ্ছে, এটা তো আছেই। এর পাশাপাশি চ্যারিটি প্রতিষ্ঠানগুলো যারা জাকাত সংগ্রহ করছে, তাদের রেগুলেটরি জায়গা থেকে সরকার যদি কিছু পলিসি করে দেয় এবং কে কতটা ইফেক্টিভলি কাজ করছে এটা একটা কম্পিটিশন যদি তৈরি করে দেয়…।”

আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বলেন, কেবল ওআইসিভুক্ত দেশগুলোতে মানুষ বছরে ছয়শ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ লক্ষ কোটি টাকা জাকাত দেয়।

“আমাদের দেশে সেই জাকাতের টাকা আনার কোনো প্রপার ওয়ে সেভাবে নেই।আমরা প্রস্তাব দিয়েছি যে, যদি সেটাকে আনার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে এটা ব্যাপক ভূমিকা রাখবে ইনশাল্লাহ।”

প্রধানমন্ত্রী এদিন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহাদ আসিফ আসাদকে নিয়ে বৈঠক করেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ও প্রতি মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন।

বৈঠকে পর প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সাথে মন্ত্রণালয়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিমানের সার্ভিস উন্নত করা, যাত্রী সেবা বাড়ানো, বিমান বন্দরে যাত্রীদের দুর্ভোগ নিরসন করা প্রভৃতি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন।”

এছাড়া রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment