নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক পূর্বাচল
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর ২০২৬:ওজন কমাতে গিয়ে কি ভাত বা ফল খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন? জেনে নিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঠিক নিয়ম।
সুস্থ জীবনযাপনের জন্য খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে গিয়ে অনেকেই অজান্তেই এমন কিছু ভুল অভ্যাস গড়ে তোলেন, যা উপকারের চেয়ে শরীরের ক্ষতিই বেশি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (NHS)-এর সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য নির্দেশিকা ও গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি হলো সুষম খাবার, পরিমিতিবোধ ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস।
বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, স্বাস্থ্যকর ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাসের নামে আমরা সচরাচর যেসব ভুল করে থাকি:
১. ভাত পুরোপুরি বাদ দেওয়া
ওজন কমানোর কথা চিন্তা করে অনেকেই খাদ্যতালিকা থেকে ভাত বা শর্করা জাতীয় খাবার পুরোপুরি বাদ দেন। অথচ হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের পুষ্টিবিদদের মতে, ভাত আমাদের শরীরের শক্তির অন্যতম প্রধান উৎস। শুধু ভাত খেলেই যে ওজন বৃদ্ধি পায়, ধারণাটি সঠিক নয়। বরং সারাদিনে মোট কত ক্যালরি খাবার খাওয়া হচ্ছে এবং শারীরিক পরিশ্রম কেমন হচ্ছে, তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভাতের সঙ্গে পর্যাপ্ত শাকসবজি, ডাল, মাছ বা ডিম রাখলে তা শরীরের পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে দারুণ কাজ করে।
২. ফলে থাকা প্রাকৃতিক চিনিকে ভয় পাওয়া
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশনা অনুযায়ী, অনেক সময় ওজন কমানোর ভয়ে অনেকেই ফল খাওয়া কমিয়ে দেন, কারণ ফল মিষ্টি বা তাতে প্রাকৃতিক ফ্রুকটোজ থাকে। অথচ ফলে থাকা ভিটামিন, খনিজ, পানি ও ফাইবার বা আঁশ শরীরের জন্য অপরিহার্য। প্রক্রিয়াজাত কোমল পানীয় বা মিষ্টির কৃত্রিম চিনির সঙ্গে ফলের প্রাকৃতিক চিনিকে মেলানো যাবে না। ফলের রসের পরিবর্তে গোটা ফল খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
৩. সব ধরনের চর্বি বা ফ্যাট বর্জন করা
চর্বি মানেই ক্ষতিকর—এই ধারণাটি পুরোপুরি ভুল। এনএইচএস (NHS)-এর স্বাস্থ্য নির্দেশিকা বলছে, শরীরের হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা, কোষের গঠন এবং কিছু নির্দিষ্ট ভিটামিন শোষণের জন্য ফ্যাটের প্রয়োজন রয়েছে। তবে সব ফ্যাট এক নয়। অতিরিক্ত ট্রান্স ফ্যাট ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট এড়িয়ে চলা উচিত হলেও বাদাম, বীজ এবং সামুদ্রিক মাছের মতো স্বাস্থ্যকর ফ্যাট নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।
৪. ‘স্বাস্থ্যকর’ খাবার বলেই অতিরিক্ত খাওয়া
অলিভ অয়েল, ওটস, বাদাম বা ফল স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় থাকলেও এগুলোর অতিরিক্ত ক্যালরির কথা অনেকে ভুলে যান। স্বাস্থ্যকর খাবার বলে এগুলো ইচ্ছেমতো বা অনিয়ন্ত্রিত পরিমাণে খেলে ওজন উল্টো বেড়ে যেতে পারে। তাই যেকোনো খাবার খাওয়ার সময় পুষ্টিগুণের পাশাপাশি পরিমাণের দিকেও সমান নজর দেওয়া জরুরি।
৫. খাবার বাদ দিয়ে উপবাস বা ক্র্যাশ ডায়েট
দ্রুত ওজন কমানোর শর্টকাট খুঁজতে গিয়ে অনেকে সকালের নাশতা বা দুপুরের খাবার খাওয়া বাদ দেন। এতে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি হওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত ক্ষুধা পাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা সবার শরীর সহ্য করতে পারে না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, হার্ভার্ড এবং এনএইচএস-এর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থ থাকার অর্থ প্রিয় খাবারগুলো পুরোপুরি জীবন থেকে বাদ দেওয়া নয়। বরং পরিমিত পরিমাণে সব ধরনের খাবার খাওয়া, খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত শাকসবজি ও ফল রাখা, অতিরিক্ত লবণ-চিনি এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে একটি সুন্দর জীবনধারা গড়ে তোলাই হলো দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার আসল রহস্য।


