সড়কের সরকারি গাছ কর্তন, আলোচিত সেই উপজেলা বিএনপির সভাপতি গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে সড়কে রোপণ করা গাছ কেটে ফেলার মামলায় সদস্যপদ স্থগিত হওয়া মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, নিজের বাড়ির যাতায়াতের পথ সুগম করতে গত ৫ আগস্টের পর থেকে ধাপে ধাপে মিঠামইন উপজেলার কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে সড়কে রোপণ করা গাছ কেটে ফেলেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জাহিদুল আলম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে প্রবেশ করতে হলে বাঁধের ওপর দিয়ে যেতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে চলাচলে কিছুটা সমস্যা হওয়ায় গত ৫ আগস্টের পর থেকে একে একে গাছ কাটা শুরু করেন। সর্বশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রতিটি গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। বৈদ্যুতিক করাত ব্যবহার করে গাছের গুঁড়ি কেটে ফেলা হয় এবং পরে সেগুলো সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।

মিঠামইন উপজেলার দায়িত্বে থাকা বন বিভাগের কর্মকর্তা জুলফিকার জয় জানান, বেড়িবাধে কেটে ফেলা গাছগুলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় খোয়াব নামে একটি এনজিও সংস্থা রোপন করেছিল। বিষয়টি উপকারভোগী স্থানীয় দুঃস্থ নারী ও এলজিইডি দেখাশোনা করছে। এটা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নদীভাঙন ঠেকাতে ওই বেড়িবাঁধে গাছ রোপণের উদ্যোগ নেয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো এলাকাবাসীর কাছে ভাঙনরোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment