আন্তর্জাতিক ডেস্ক, দৈনিক পূর্বাচল:
হরমুজ প্রণালিতে একের পর এক জাহাজডুবি ও ট্যাঙ্কারে অগ্নিকাণ্ডে তৈরি হয়েছে তীব্র সংকট। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মধ্যে বহির্বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই নৌপথে বাড়ছে চরম নিরাপত্তা উদ্বেগ। পড়ুন বিস্তারিত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ ও এর আশপাশের অঞ্চলে চরম নিরাপত্তা সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে এই কৌশলগত নৌপথে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজডুবি এবং তেলবাহী ট্যাঙ্কারে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যেই এই নৌপথে নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করছে ইরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, ওমান উপসাগরে নিজের অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (ট্র্যাকার) বন্ধ রেখে নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করার সময় একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আগুন ধরে যায়। তবে ঠিক কীভাবে আগুন লেগেছে এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত—সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে অভিযান পরিচালনাকারী মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
‘বিপ্লবের পর সবচেয়ে কঠিন সংকটে ইরান’: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
সংকটের মধ্যেই ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, “১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর গত ৪৮ বছরে ইরান কখনো এমন তীব্র অবরোধ, যুদ্ধ ও সংকটের মুখে পড়েনি।”
গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ চলছে। পেজেশকিয়ান অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানি জনগণের জীবনযাত্রা কঠিন করে তুলছে, যাতে সামাজিক বিক্ষোভ উসকে দিয়ে তারা নিজেদের রাজনৈতিক লক্ষ্য হাসিল করতে পারে।
আন্তর্জাতিক তেলের বাজার ও রাজনৈতিক কৌশল:
আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করতেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে তেহরান। তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে দাম অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে মার্কিন রাজনীতিতে।
একই সপ্তাহে একাধিক জাহাজডুবি:
সামুদ্রিক পথ নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে প্রজেক্টাইল ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজ ধ্বংস হচ্ছে:
-
জিএফএস প্রাইড (GFS Pride): সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ২,৮২৪ টিইইউ ধারণক্ষমতার এই কনটেইনার জাহাজটিতে হামলার পর আগুন ধরে যায় এবং সেটি ডুবে যায়। জাহাজটির ২১ জন ক্রুকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
-
কেপ ডাও (Cape Dao): অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী এই জাহাজটি গত সেপ্টেম্বরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালির কাছে সেটি সলিলসমাধি লাভ করে। এ ঘটনায় এক ক্রু নিহত হন।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটি তৃতীয় আন্তর্জাতিক জাহাজডুবির ঘটনা। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ক্রমাগত হামলার ঘটনায় বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এখন বড় ধরনের হুমকির মুখে।


