sara desh

আগামী বছরই চালু হচ্ছে গ্রাম সরকারব্যবস্থা: মন্ত্রিসভায় উঠছে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া | দৈনিক পূর্বাচল

অনলাইন ডেস্ক, দৈনিক পূর্বাচল

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬

গ্রামীণ জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে দেশে ফের চালু হচ্ছে গ্রাম সরকারব্যবস্থা। ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।

গ্রামীণ জনগণের সার্বিক কল্যাণ ও স্থানীয় পর্যায়ে স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে আগামী বছরই দেশে ফের চালু হতে যাচ্ছে ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থা। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতিমধ্যে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’-এর একটি খসড়া চূড়ান্ত করেছে। দুর্গাপূজার ছুটি শেষে মন্ত্রিসভার আগামী প্রথম বৈঠকেই এই সংক্রান্ত প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই খসড়া প্রস্তাবটি পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশনা দেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

৫ সদস্যের নতুন কাঠামো ও নির্বাচন পদ্ধতি

স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত ৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনানুষ্ঠানিকভাবে গ্রাম সরকার পুনর্বহালের বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপরই ২০০৩ সালের পুরোনো আইনটি পরিমার্জন ও আধুনিকায়ন করে নতুন আইনের খসড়া তৈরি করা হয়।

খসড়া আইন অনুযায়ী:

  • কাঠামো: প্রতিটি গ্রাম সরকারে মোট ১৭ জন সদস্য থাকবেন। এর মধ্যে ১ জন প্রধান, ১ জন উপদেষ্টা এবং ১৫ জন সাধারণ সদস্য।

  • নেতৃত্ব: সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য হবেন গ্রাম সরকারের ‘প্রধান’ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের ইউপি সদস্য হবেন ‘উপদেষ্টা’।

  • সদস্য নির্বাচন: ১৫ জন সদস্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটারদের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটিং পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবেন। এ ক্ষেত্রে মোট ভোটারের কমপক্ষে ১০ শতাংশের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

  • মেয়াদ: গ্রাম সরকারের মেয়াদ হবে ৫ বছর।

গ্রাম সরকারের মূল দায়িত্ব ও পরিধি

নতুন খসড়া অনুযায়ী, স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তি ছাড়াও গ্রাম সরকার মূলত গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার তদারকি করবে। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, মাদক ও জুয়া বন্ধ, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাজ করবে এই পরিষদ।

সোলার বিদ্যুৎ ও উন্নয়ন প্রকল্পে গতি আনার নির্দেশ

গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে ৪ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী এই লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে, পরিকল্পনা কমিশনে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পাসে দীর্ঘসূত্রতা ও বিলম্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য। প্রকল্পের জটিলতা নিরসন করে দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয় বৈঠক থেকে।

গ্রাম সরকারের পেছনের ইতিহাস

দেশে প্রথম গ্রাম সরকার ব্যবস্থার সূচনা করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৮০ সালে আইনি কাঠামোর মাধ্যমে এটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে বিএনপি সরকারের মেয়াদে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০০৩’ প্রণয়ন করা হলেও আইনি জটিলতা ও ২০০৫ সালে হাইকোর্টের রায়ে তা অসাংবিধানিক ঘোষিত হয়। পরে ২০০৯ সালে আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে রহিত করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর যুগোপযোগী পরিবর্তন এনে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে ব্যবস্থাটি পুনরুজ্জীবিত করতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment