নিজস্ব প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ এবং উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠক শেষে সফল সফর সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গী অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও দেশে ফিরেছেন।
এর আগে স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় ভাষণ দেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রদত্ত ওই ভাষণে তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়ে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও জাতীয় অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক মানবতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের গৃহীত উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের জোরালো সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি যেকোনো সংঘাত নিরসনে যুদ্ধ বা অস্ত্রের পরিবর্তে কার্যকর সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে জনগণের ক্ষমতায়ন এবং সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ সময় দেশের অর্থনীতি ও শাসনব্যবস্থা পুনর্গঠনে সরকারের নেওয়া ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন’ বা ‘থ্রি-আর’ (3-R) কৌশলের রূপরেখাও তুলে ধরেন তিনি।
দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ নিজ ভূখণ্ডে প্রত্যাবাসনই একমাত্র স্থায়ী সমাধান। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ও জোরালো সহযোগিতা কামনা করেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।


