গতকাল সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী, একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন—এ নিয়ম মেনেই তিনি তিন আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন।
নির্বাচনী আইন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের পর কোনো প্রার্থীর মৃত্যু ঘটলে ওই নির্দিষ্ট আসনে পুনঃতফসিল বা উপনির্বাচনের মতো নতুন সময়সূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। সাধারণত, ভোটগ্রহণের আগেই প্রার্থীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট আসনে নতুন প্রার্থী মনোনয়ন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ তৈরিতে ইসি বিশেষ নির্দেশনা বা সংশোধিত সূচি ঘোষণা করতে পারে, তবে এটি জাতীয় তফসিল পুনঃঘোষণার সমতুল্য নয়, বরং শুধু সংশ্লিষ্ট আসনভিত্তিক বিশেষ ব্যবস্থাপনা।
বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, দলীয়ভাবে এখন ওই তিন আসনে নতুন প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে এই তিন আসনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেমে থাকবে না, তবে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসারে ইসি পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে—যার মধ্যে থাকতে পারে আসনভিত্তিক সময় বাড়ানো, পুনঃমনোনয়ন গ্রহণ বা বিশেষ নির্দেশনা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে বগুড়া–৭, দিনাজপুর–৩ ও ফেনী–১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। একই তিন আসনে দলের পক্ষ থেকে একজন করে বিকল্প প্রার্থীও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, ফলে প্রতিটি আসনে ইতোমধ্যে বিকল্প প্রতিদ্বন্দ্বীর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যু সংবাদ প্রকাশের পর নির্বাচনী আইন অনুযায়ী পুনঃতফসিল লাগবে কি না—এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার মূল আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO)–এ বলা আছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করা কোনো বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট আসনে নতুন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করতে হবে। তবে নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মনোনয়ন জমা দিলেই কেউ বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী হিসেবে গণ্য হন না।
ইসির কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাইয়ে টিকে যাওয়ার পরই কোনো প্রার্থীকে “বৈধভাবে মনোনীত” (validly nominated) হিসেবে বিবেচনা করা হয়। খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র এখনো বাছাই প্রক্রিয়ার আগে থাকায় তিনি বৈধ প্রার্থী নন, ফলে তাঁর মনোনয়ন স্থগিত অবস্থায় থাকবে এবং এটি নতুন তফসিল ঘোষণার শর্ত পূরণ করে না।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানান,
“বৈধভাবে মনোনীত ঘোষণার পর কোনো প্রার্থীর মৃত্যু হলে পুনঃতফসিল দিতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেটি প্রযোজ্য নয়, তাই নতুন তফসিল ঘোষণার প্রয়োজন নেই।”
তিনি আরও বলেন, কোনো দল একটি আসনে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারে, কিন্তু প্রতীক বরাদ্দের আগে যাঁর নামে দল প্রতীক বরাদ্দের চিঠি দেয়, তিনিই চূড়ান্ত দলীয় প্রার্থী হন। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই তিন আসনে বিএনপির বিকল্প প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, যা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা অব্যাহত রাখার জন্য যথেষ্ট আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে।
সার্বিক বিশ্লেষণ শেষে ইসি কমিশনার বলেন,
“খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নির্বাচনের তফসিলে কোনো পরিবর্তন আনার সুযোগ বা প্রয়োজন নেই। তিন আসনে বিকল্প প্রার্থী থাকায় পুনঃতফসিল লাগবে না এবং নির্বাচন যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।”


