চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন হক সম্প্রতি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক হন। তাকে গ্রেপ্তারে চলচ্চিত্র অভিনেতা ডিপজল সহায়তা করেছেন বলে আলোচনা রয়েছে।
এ কারণে ডিপজলকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি তাকে মামলার সাক্ষী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জোর দাবি জানিয়েছেন সালমানের মা নীলা চৌধুরী। তিনি মনে করেন, ডিপজল এফডিসির অনেক ভেতরের খবর জানেন।
সালমান যখন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, তখন ডিপজলরা চলচ্চিত্রে নিয়মিত সক্রিয় ছিলেন। ফলে ঘটনার পেছনের অনেক তথ্যই তার জানা থাকতে পারে, যা তদন্তের স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও ডন কীভাবে ভোট দিতে এলেন, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নীলা চৌধুরী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন পলাতক বা অভিযুক্ত আসামি কীভাবে এফডিসিতে প্রকাশ্যে এসে নির্বাচনে অংশ নেন?
একই সঙ্গে শিল্পী সমিতির বর্তমান সভাপতি শিবা শানুসহ যারা ডনকে সেখানে বরণ করে নিয়েছিলেন এবং আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
ডন আটক হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নীলা চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, আসামিদের আটকের পর থেকে সালমানের মামা কুমকুমকে নতুন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
শুধু পরিবারই নয়, বিচার দাবিতে সোচ্চার সালমান শাহর ভক্তদেরও নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, যার ডিজিটাল প্রমাণ (স্ক্রিনশট) তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে এসব ভয়ভীতি দেখিয়ে বিচারের দাবি স্তব্ধ করা যাবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে দীর্ঘদিনের আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির দাবিতে ‘সালমান শাহ ভক্ত ঐক্যজোট’-এর ব্যানারে দেশের ৬৪ জেলা থেকে আগত ভক্তরা ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন।
ভক্তদের মূল দাবি, ডনকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক এবং মামলায় অভিযুক্ত মূল আসামি সামিরাসহ বাকিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। দাবি আদায় না হলে সারা দেশে আবারও কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর আদালতে একটি হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডন, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আবদুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দীর্ঘ সময় পার হলেও পরিবার ও ভক্তদের একটাই দাবি- সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।


