মাঠের উত্তেজনা এবার সাইবার যুদ্ধে: মিসরীয় হ্যাকারদের কবলে আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশন

স্পোর্টস ডেস্ক:

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের জাদুকরী পারফরম্যান্সে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা。 তবে মাঠের সেই চরম উত্তেজনা এখন রূপ নিয়েছে এক নজিরবিহীন সাইবার যুদ্ধে। ম্যাচটিতে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ারের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল মিসরীয় দল ও তাদের সমর্থকরা। এই মাঠের বিতর্কের রেশ ধরেই এবার খোদ আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশন (AFA) বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে।

‘লা কাল্লে’র বিস্ফোরক প্রতিবেদন: ডাটাবেজ ভেঙে তথ্য চুরি

আর্জেন্টাইন জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘লা কাল্লে’ (La Calle)-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মিসরীয় একদল হ্যাকার এএফএ-এর প্রাতিষ্ঠানিক ডাটাবেজ ও অফিশিয়াল ইমেইল সিস্টেম হ্যাক করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যাকাররা আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের ডাটাবেজের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সাংবাদিকদের ইমেইল ঠিকানা, পাসওয়ার্ড এবং আইপি অ্যাড্রেস (IP Address) হাতিয়ে নিয়েছে।

অফিশিয়াল ইমেইল থেকে সাংবাদিকদের কাছে ‘গণ-ইমেইল’

ডাটাবেজ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর হ্যাকাররা এএফএ-এর অফিশিয়াল ইমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আর্জেন্টিনা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের অ্যাক্রেডিটেড সাংবাদিকদের কাছে একটি স্পর্শকাতর গণ-ইমেইল পাঠায়। সেই ইমেইলে দাবি করা হয়— “আর্জেন্টিনা আসলে ম্যাচটি জেতেনি” এবং রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ারের “দুর্নীতিগ্রস্ত সিদ্ধান্তের কারণেই” ম্যাচটির ফলাফল এমন হয়েছে। একই সঙ্গে ইমেইলটিতে মিসরীয় ফুটবল দলের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসাও করা হয়।

এএফএ-এর জরুরি বিবৃতি ও তদন্ত শুরু

এই নজিরবিহীন সাইবার হামলার পর আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (AFA) একটি জরুরি প্রাতিষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে。 বিবৃতিতে তারা জানায়:

“আমরা সকলকে অবহিত করতে চাই যে, আমাদের একটি প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল অ্যাকাউন্ট থেকে কিছু অননুমোদিত ইমেইল পাঠানো হয়েছে, যা আমাদের টিম দ্বারা তৈরি বা সার্টিফাইড নয়। আমাদের সিস্টেমে অননুমোদিত প্রবেশের (Unauthorized Access) বিষয়টি আমরা শনাক্ত করেছি এবং কী ঘটেছে তা খতিয়ে দেখতে ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে কাজ করছি।”

পাশাপাশি, এএফএ-এর পক্ষ থেকে সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণকে এই ধরণের সন্দেহজনক ইমেইল, কোনো লিংক বা অ্যাটাচমেন্ট এড়িয়ে চলার এবং ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

নেপথ্যে মাঠের সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

উল্লেখ্য, শেষ ষোলোর ওই নকআউট ম্যাচে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলে ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল মিসর। কিন্তু পরবর্তীতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) এবং ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ারের কিছু সিদ্ধান্ত মিসরের বিপক্ষে যায়, যা নিয়ে ম্যাচ শেষেই ফিফার (FIFA) কাছে অফিসিয়াল অভিযোগ দায়ের করে মিসরীয় ফুটবল ফেডারেশন। তারা রেফারিকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবিও তুলেছিল। মাঠের সেই ক্ষোভই এবার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে রূপ নিল বড়সড় এক আন্তর্জাতিক স্ক্যান্ডালে।

আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ডেস্ক, দৈনিক পূর্বাচল।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 2   +   1   =