আপাতত স্থগিত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান: অগ্রাধিকার পাচ্ছে কূটনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

তেহরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতায় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখল যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিএনএন।

ইরানের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতা এবং তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন প্রশাসনের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত করা হলেও দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা যথারীতি অব্যাহত রয়েছে।

সিএনএনের বিস্ফোরক প্রতিবেদন মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যাতে আরও জটিল বা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে না ওঠে, সেজন্য এই মুহূর্তে সামরিক অভিযানের চেয়ে কূটনৈতিক আলোচনাকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসন। তবে যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক—দুই ধরনের প্রস্তুতিই পুরোপুরি ধরে রেখেছে।

প্রস্তুত লক্ষ্যবস্তুর তালিকা, তবে প্রথম পছন্দ আলোচনা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরানের ভেতরে হামলার জন্য সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর (টার্গেট লিস্ট) তালিকা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করে রেখেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। তবে ওয়াশিংটন আপাতত আলোচনার টেবিলেই সংকটের সমাধান খুঁজছে। মার্কিন ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে বা তেহরান চুক্তি লঙ্ঘন করলে খুব অল্প সময়ের নোটিশে অত্যন্ত নিখুঁত ও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা মার্কিন বাহিনীর রয়েছে।

উত্তেজনার কেন্দ্রে পারমাণবিক কর্মসূচি সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলেও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর (যেমন ওমান ও কাতার) সময়োপযোগী কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি আপাতত যুদ্ধের দিকে মোড় নেয়নি। দুই দেশের কারিগরি প্রতিনিধি দল পারমাণবিক সুরক্ষাবলয় নিয়ে এখনো পর্দার আড়ালে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক স্বস্তি দিলেও পেন্টাগনের যুদ্ধপ্রস্তুতি বজায় রাখার বার্তাটি তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশল হতে পারে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 3   +   9   =