‘মামুনের নির্দেশে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল’:  পরীমণি

বিনোদন প্রতিবেদক, ঢাকা: ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীর বাসায় দীর্ঘ সময় অভিযানের নামে নাটকীয়তার পর তৎকালীন র‍্যাব প্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশেই তাকে অন্যায় ও বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল—এমন দাবি করেছেন ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি।

সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়রুল ইসলামের দেওয়া কিছু সত্য স্বীকারোক্তির সূত্র ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক দীর্ঘ ও আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন এই অভিনেত্রী। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তার হারিয়ে যাওয়া সম্মান, ক্যারিয়ার ও মানসিক শান্তির দায় রাষ্ট্র কীভাবে নেবে?

সাবেক গোয়েন্দা প্রধানকে ধন্যবাদ শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে পরীমণি লেখেন, “র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়রুল ইসলামকে ধন্যবাদ। সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে দেরিতে হলেও আপনি এমন কিছু সত্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, যার মাধ্যমে দেশের মানুষ জানতে পারলো যে ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীতে আমার বাসায় দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর নামে নাটকীয়তার পর তৎকালীন র‍্যাব প্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে আমাকে অন্যায়ভাবে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং বিশেষ মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।”

২০ দিনের কারাভোগ ও মানসিক বিপর্যয় সেই সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে পরীমণি বলেন, “পরবর্তীতে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে টানা ২০ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “গ্রেপ্তারের দিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি সেই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী হয়েই জীবন কাটাচ্ছি। যেভাবে আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে, আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে।”

রাষ্ট্রের কাছে জবাব চাইলেন নায়িকা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের আশা প্রকাশ করে এই অভিনেত্রী কিছু মৌলিক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। তিনি লেখেন, “এবার হয়তো রাষ্ট্রীয় সেই সাজানো মামলা থেকে মাননীয় আদালত আমাকে অব্যাহতি দিবেন। কিন্তু আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে? রাষ্ট্রের কাছে আমি এই প্রশ্নগুলোর জবাব চাইলে কি দিতে পারবেন?”

ক্ষোভ নয়, চান ন্যায়বিচার কোনো প্রতিশোধের মনোভাব নেই উল্লেখ করে পরীমণি বলেন, “এতোগুলা দিন পর আমি কোনো ক্ষোভ বা প্রতিশোধের কথা বলতে চাই না। আমি শুধু সত্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিকতার পক্ষে কথা বলতে চাই। রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে ব্যবহার করে একজন সাধারণ নারী শিল্পীর জীবনকে যেভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে, আমি শুধু চাই ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এমন অভিজ্ঞতার শিকার না হন।”

মুক্ত আকাশে ‘পরীর’ মতো ওড়ার প্রত্যয় পোস্টের শেষাংশে কঠিন সময়ে পাশে থাকা পরিবার, বন্ধু, সাংবাদিক এবং ভক্তদের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। অতীতের ক্ষত ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে পরীমণি লেখেন, “আমি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না। আমি মুক্ত আকাশে পরীর মতোই উড়তে চাই। আমি বাঁচতে ভালোবাসি আর আমার কাজ, আমার সন্তান, আমার পরিবার এবং আমার দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই আমি বাকি জীবন বাঁচতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, সত্যকে কখনো চিরদিন চাপা রাখা যায় না। আর ন্যায়বিচারের পথে হাঁটা কখনো বৃথা যায় না।”

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 4   +   7   =