কিশোরী ‘রিমি’ নিখোঁজ ও হত্যা ঘিরে তোলপাড়: ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা, নীরব দুই বাংলার নাগরিক সমাজ/দৈনিক পূর্বাচল

দৈনিক পূর্বাচল:

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম কিশোরী রিমি নিখোঁজ ও নির্মম হত্যা ঘিরে বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে খুনিদের বাঁচানোর চেষ্টার অভিযোগে উত্তাল ওপার বাংলা। কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার ঘটনা নিয়ে ওপার বাংলার অপপ্রচার এবং রিমি হত্যায় রহস্যময় নীরবতা নিয়ে বিশেষ বিশ্লেষণ। লিখেছেন দৈনিক পূর্বাচলের নির্বাহী সম্পাদক সোহেল হাওলাদার।

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম কিশোরী রিমি নিখোঁজ ও পরবর্তীতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার ঘটনায় ওপার বাংলায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ধর্মীয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। তবে এই নৃশংস ঘটনা নিয়ে দুই বাংলার মানবাধিকার কর্মী ও নেটিজেনদের একচোখা নীতি এবং নীরবতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রিমি নামের ওই মুসলিম কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার স্থানীয় পুলিশের দ্বারস্থ হলেও মামলা নিতে চরম গড়িমসি ও অবহেলার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে এক আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জানা যায়, রিমিকে ধর্ষণের পর আধমরা (জীবিত) অবস্থায় একটি পুকুরপাড়ে পুঁতে রাখা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, অপরাধের অকাট্য প্রমাণ থাকার পরও এক প্রভাবশালী বিজেপি নেতা খুনিদের বাঁচাতে ঢাল হয়ে দাঁড়ান এবং পুলিশকে ওই পুকুরে তল্লাশি চালাতে বাধা দেন।

পরবর্তীতে ঘটনার সত্যতা জানাজানি হলে উত্তেজিত জনতা এক ঘাতককে গণধোলাই দিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উল্টো ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনদের বিরুদ্ধে ‘মব জাস্টিস’ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পাল্টা অভিযোগ আনা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আরও উস্কে দিয়েছে। বর্তমানে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের বিরুদ্ধে পুরো পশ্চিমবঙ্গ উত্তাল রূপ নিয়েছে।

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে ওপার বাংলার একশ্রেণির মিডিয়া ও সুশীল সমাজের দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে। কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের কুমিল্লায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে নির্মমভাবে খুন হন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। র‍্যাবের তদন্তে এটি সম্পূর্ণ একটি অরাজনৈতিক পেশাদার ছিনতাইয়ের ঘটনা হিসেবে প্রমাণিত হলেও, ওপার বাংলার কতিপয় গোষ্ঠী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতনের কারণে হত্যাকাণ্ড’ বলে অপপ্রচার চালানো হয় এবং তাদের তালিকায় বুলেট বৈরাগীর নাম তুলে দেওয়া হয়।

অথচ ওপার বাংলায় ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে এক কিশোরীর নিখোঁজের ডায়েরি নিতে পুলিশের অবহেলা এবং বিজেপি নেতার খুনিদের পক্ষ নেওয়ার মতো স্পষ্ট সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনায় বাংলাদেশ বা ওপারের তথাকথিত প্রগতিশীল সমাজকে তেমন কোনো জোরালো প্রতিবাদ বা সরব ভূমিকা পালন করতে দেখা যাচ্ছে না। এই দ্বিমুখী দৃষ্টিভঙ্গি ও রহস্যময় নীরবতা নিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা চলছে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 7   +   3   =