বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের হেড কোচ হাভিয়ের কাবরেরা ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দু’টি ম্যাচকে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচের প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুরের কাছে তিন পয়েন্ট পাওয়াই তার মূল লক্ষ্য। তবে এই দুই ম্যাচের আগে দলে নেই দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় রাকিব হোসেন ও তপু বর্মণ। দু’জনই কার্ডের খাঁড়ায় কাটা পড়েছেন। তপুর ক্ষতি অন্য ডিফেন্ডাররা পোষাতে পারলেও রাকিবের শূন্যস্থান পূরণে বেগ পেতে হতে পারে কাবরেরাকে। বেশ কয়েকবছর ধরে জাতীয় দলে দারুণ খেলছেন রাকিব হোসেন। ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বেও দূর্দান্ত খেলেছেন। নিজে গোল করেছেন, করিয়েছেনও একাধিক। দারুণ ফর্মে থেকেও সিঙ্গাপুর ম্যাচ খেলতে না পারার আক্ষেপে পুড়ছেন রাকিব। তবে তার বিশ্বাস তার শূন্যস্থান সিঙ্গাপুর ম্যাচে বুঝতে দিবেন না সতীর্থরা। ২০১৯-২০ মৌসুমে চট্টগ্রাম আবাহনী দিয়ে পেশাদার ফুটবলে পথচলা শুরু রাকিব হোসেনের। সেখানে দুই মৌসুম কাটিয়ে যোগ দেন ঢাকা আবাহনীতে। পর্তুগীজ কোচ মারিও লেমোসের অধীনে ঢাকা আবাহনীতে দারুন একটি মৌসুম কাটান এই উইংগার। এরপর থেকে খেলছেন বসুন্ধরা কিংসে। কিংসের হয়ে এখন পর্যন্ত ৫৬ ম্যাচ খেলেছেন রাকিব হোসেন, করেছেন ২৫ গোল । ২০২০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে জাতীয় দলে অভিষেক হয় রাকিবের। ২০২২ সালে কম্বোডিয়ার বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোল করেন রাকিব। তবে দিন যতো গড়িয়েছে নিজেকে ততো পরিণত করেছেন কিংসের এই ফুটবলার। বিশেষ করে এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে উজ্জল ছিলেন রাকিব। পাঁচ ম্যাচে দুটি গোল করেছেন। গত বছরের ১০ই জুন ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ২ গোলে পিছিয়ে পরা ম্যাচে রাকিব গোল করে বাংলাদেশকে খেলায় ফিরিয়ে ছিলেন। হংকংয়ের কাইতাক স্টেডিয়ামে তার গোলেই হংকংয়ের বিপক্ষে এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরেছিল বাংলাদেশ। সল্টলেকে ভারত ও ঢাকায় সিঙ্গাপুর ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন রাকিব। যার খেসারত দিতে গিয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে নেই তিনি। এনিয়ে আপেক্ষে পুরছেন জাতীয় দলের এই ফুটবলার। এই মুর্হুতে দল যখন ভিয়েতনামের যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, হলুদ কার্ডের খড়গে পরে বরিশালের নিজের বাড়িতে অবস্থান করছেন রাকিব। সেখান থেকে সতীর্থদের কাছে ঈদের উপহার চেয়ে রাকিব বলেন, ‘সামনে ঈদ। ওরা ঈদ সেক্রিফাইস করেই খেলতে যাচ্ছে সিঙ্গাপুরে। আমার বিশ্বাস ঈদ সেক্রিফাইসের পুরস্কার সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে ফুটবলাররা দিতে পারবে। যা দেশবাসীর কাছে হবে ঈদের বাড়তি একটি উপহার।’ আগামী ৩১শে মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তার আগে ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে হামজা-জামালাররা। হামজা চৌধুরী ভিয়েতনামে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন, আগেই জানানো হয়েছিল। তাকে বাদ দিয়ে ঢাকার ক্যাম্পের জন্য যে ২৮ জনের দল দেয়া হয়েছে, শমিত, ফাহমিদুল, জায়ান আহমেদসহ মঙ্গলবার সেই পূর্ণ দলকে পেয়েছেন হাভিয়ের কাবরেরা। প্রবাসী তারকা খেলোয়াড়দের নিয়ে বর্তমান দলটা আগের থেকে বেশ শক্তিশালী। এশিয়ান কাপ বাছাইয়েও তার যথেষ্ট ছাপ আছে। ঘরের মাঠে ভারতকে হারানো ছাড়াও দুটি অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে পয়েন্ট নিয়েছে। ঘরের মাঠে জয় আসতে পারত হংকংয়ের বিপক্ষেও। শেষটা জয়ে রাঙাতে পারলে বাংলাদেশ আরো ভালো একটা অবস্থান নিয়ে শেষ করতে পারবে। সেটা বিশ্বাস কওে রাকিব বলেন, ‘এবার আমাদেও সুযোগ ছিলো। মাঠে আমরা ভালোই করেছিলাম। তবে ভাগ্য সহায় না থাকায় হয়তো আমরা কাঙ্খিত যায়গায় যেতে পারিনি। তবে আশা করি সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে অন্তত গ্রুপে দুই নম্বরে থেকে শেষ করতে পারবো। ‘সি’ গ্রুপে এখ পর্যন্ত ৫ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। যার মধ্যে দুটিতে ড্র একটি জিতেছে হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যরা। গ্রুপে পাঁচ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে আছে সিঙ্গাপুর। আট পয়েন্ট নিয়ে হংকং দুই ও দুই পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে ভারত।


