জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আবেগ নয়, চলতে হবে সাংবিধানিক পথে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘‘রাষ্ট্র কোনো আবেগ (ইমোশন) দিয়ে চলে না; রাষ্ট্র চলে সংবিধান, আইন ও কানুন দিয়ে। সরকার ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তা কোনো অবৈধ বা আরোপিত আদেশের মাধ্যমে নয়, বরং সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করতে হবে।’’

রোববার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ‘জুলাই সনদ’ কার্যকরের বিষয়ে সংসদে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তারই প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই জবাব দেন।

বক্তব্যের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদীয় রীতিনীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো মুলতবি প্রস্তাব বা সংক্ষিপ্ত আলোচনা আনতে হলে কার্যপ্রণালী বিধির ৬২ বা ৬৮ ধারা অনুযায়ী নোটিশ দেয়ার বিধান রয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা এমন কোনো নোটিশ দিয়েছেন কি না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

বিরোধীদলীয় নেতার পঠিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু সংবিধান পরিবর্তন বা সংশোধন সংক্রান্ত কোনো বিষয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে আসতে পারে না। অথচ গত বছরের ১৩ নভেম্বর জারি করা এই আদেশটি না কোনো অধ্যাদেশ, না কোনো আইন। এটি একটি অদ্ভুত বিষয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই আদেশের ওপর ভিত্তি করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেয়া এবং রাষ্ট্রপতির কাছে অধিবেশন আহ্বানের দাবি অসাংবিধানিক।’

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোট প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘গণভোটে জনগণের রায়কে আমরা সম্মান করি। কিন্তু আদেশের মাঝখানে জবরদস্তিমূলকভাবে এমন কিছু প্রশ্ন ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা জুলাই সনদের রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ ছিল না। চারটি ভিন্ন প্রশ্নের জন্য একটি মাত্র ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল, যা যৌক্তিক ছিল না।”

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আইনি প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হলে আগে সংবিধানে সংশোধন আনতে হবে। সংবিধানে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর সংস্কার পরিষদের শপথ বা অন্যান্য বিষয় আসবে।’

চলতি অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল আনার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রথম দিনেই সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশের ফয়সালা করতে হবে। সামনে দীর্ঘ ছুটি রয়েছে। তাই এই অধিবেশনে হয়তো সময় পাওয়া যাবে না। তবে কার্যউপদেষ্টা কমিটিতে সিদ্ধান্ত হলে আগামী বাজেট অধিবেশনে আমরা সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন করতে পারি।’

সবশেষে বিরোধীদলীয় নেতাকে কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা কার্যউপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনা করি। আমরা জাতির কাছে অঙ্গীকার করেছি যে, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি শব্দকে আমরা সম্মান করি। আসুন আমরা সংসদে সমঝোতার ভিত্তিতে বিল গ্রহণ করি এবং সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যাই।’

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment