ইরানে খার্গ দ্বীপে হামলার পরই আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা জ্বলছে

ইরানের খার্গ দ্বীপে তেলকেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘন্টা পরেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। এতে আমিরাতের আকাশে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে উপকূলীয় শহর ফুজাইরাহ থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। এই শহরে একটি বড় বন্দর রয়েছে, আঞ্চলিক তেল বন্দর রয়েছে। আঞ্চলিক তেল বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই তেল বন্দর। সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি টার্মিনালও আছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, একটি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করার পর এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়।

অনলাইনে দেয়া এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানায়, আকাশ থেকে পড়া টুকরোর কারণে আগুন লাগে। তবে ঘটনাস্থলের সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন মোকাবিলা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ঘোষণা দেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের খার্গ দ্বীপে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছে।

খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং দেশটির প্রায় পুরো অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এই দ্বীপের ওপর নির্ভরশীল। ট্রাম্প আরও সতর্ক করেন যে, দ্বীপটির তেল অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই জ্বালানি অবকাঠামো বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর আগে ইসরাইল তেহরানের তেল ডিপোগুলোতে হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরান কুয়েত থেকে ওমান পর্যন্ত বিস্তৃত উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানে। অনেক হামলাই বড় তেল ও গ্যাস স্থাপনাকে কেন্দ্র করে হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের বিশাল রাস তানুরা রিফাইনারি, কাতারের রাস লাফান গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে রুওয়াইস রিফাইনারি সংবলিত কমপ্লেক্স।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment