দেশের তৈরি পণ্য নিয়ে চীনের আন্তর্জাতিক কৃষিপণ্যের মেলায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ

আগামী ১৭ই থেকে ১৯শে মার্চ চীনের বাণিজ্যিক রাজধানী সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২৬তম চায়না ইন্টারন্যাশনাল এগ্রোকেমিক্যাল অ্যান্ড ক্রপ প্রোটেকশন এক্সিবিশন (সিএসি)। এক্সিবিশনে প্রথমবারের মতো বিশ্ব বাজারে দেশের তৈরি এগ্রোকেমিক্যাল বা কৃষি পণ্যের প্রদর্শনী করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এতে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করেছে ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট কোম্পানি (এনএসি)। আয়োজক সূত্র জানায়, মেলায় ৫০টি দেশের প্রায় ৩০ হাজার দর্শনার্থী উপস্থিত থাকবে। যেখানে এনএসি’র ৭২এফ১৬৯ নম্বর স্টলে বাংলাদেশের তৈরি কৃষিপণ্য সামগ্রী পাওয়া যাবে। চীনের কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি সাব-কাউন্সিল আয়োজিত ২৬তম এই মেলা ১৭ই মার্চ শুরু হয়ে চলবে ১৯শে মার্চ বেলা ৩টা পর্যন্ত।

চীনের সাংহাইয়ের ন্যাশনাল এক্সিবিশন অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বের এই বৃহত্তম কৃষিপণ্যের মেলায় উদ্যোক্তারা নতুন কৃষিপণ্য, প্রযুক্তি এবং টেকসই সমাধানের খোঁজে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ থেকে এর আগে অনেকে অংশ নিলেও তা ছিল কেবল পণ্য ক্রয়ের জন্য। কিন্তু এই প্রথম বাংলাদেশে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের বিশ্ববাজার সম্প্রসারণের জন্য যাচ্ছে এনএসি।

বাংলাদেশ এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন (বামা) দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যাপারে সরকারকে নীতি সহায়তা দেয়ার দাবি প্রদান করে আসছে। বর্তমান সরকার ইতিমধ্যেই এ সেক্টর নিয়ে কাজ শুরু করেছে। তারা মনে করে- সরকারের নীতি সয়হাতা পেলে এ সেক্টরের উন্নয়নে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনা সম্ভব।

মেলায় অংশগ্রহণকারী বামা’র সভাপতি ও ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট কোম্পানির (এনএসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকারের নীতি সহায়তা পেলে ওষুধ শিল্পের মতো এগ্রো শিল্পকেও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মধ্যে আমদানির পরিবর্তে রপ্তানিমূখী এবং প্রায় শতভাগ পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব। এর জন্য প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে লো কষ্ট ফান্ড সহায়তা দরকার। এ সকল সহায়তা পেলে, বহুজাতিক কোম্পানির আমদানিকৃত পণ্যের উচ্চ মূল্য থেকে কৃষককে যেমন রক্ষা করা যায়, তেমনি কম মূল্যে আন্তর্জাতিক মানের দেশি পণ্য দিয়ে উন্নতমানের কৃষি উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকের ঘামে ভেজা কষ্টের সার্থক মূল্য দেয়া সম্ভব হয়। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ওষুধ শিল্পের মতো বিশ্বমানের কৃষিপণ্য উৎপাদন করার মতো যথেষ্ট পরিমাণের কৃষি বিজ্ঞানী, রসায়নবীদ ও প্রকৌশলী বাংলাদেশেই আছে। যাদের মাধ্যমে বিশ্বমানের কৃষিপণ্য উৎপাদন করে দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে বিপুল পরিমাণে রপ্তানি করার সক্ষমতা বাংলাদেশের আছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে শ্রমের দাম এখনো অনেক কম থাকায় প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাজারে এ শিল্পের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিশ্ব বাজারে এনএসি’র এই গৌরবময় অংশগ্রহণ সম্পর্কে বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস-চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে উৎপাদিত এগ্রোকেমিক্যাল বা কৃষি পণ্যের সামগ্রী নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম কৃষিপণ্যের মেলায় প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার (এনএসি)। এটা দেশের জন্য খুবই ভালো এবং গৌরবের। এর মাধ্যমে এনএসি দেশে রপ্তানি আয় আনবেন, যা দেশের জন্য ইতিবাচক দিক। তিনি বলেন, এনএসি দেশের জন্য কৃষিপণ্য তৈরি করছেন। এতে আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশকে সহয়াতা করছে। এনএসি’র মতো অন্য কোম্পানিগুলো এগিয়ে আসলে সেটা দেশের জন্য ভালো। তিনি বলেন, আমার এখন তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরশীল। কৃষিপণ্য রপ্তানি শুরু হলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে আরেকটা বৈচিত্র্য যুক্ত হবে। অর্থাৎ রপ্তানি আয়ের নতুন একটা সেক্টর খুলতে যাচ্ছে।

কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে প্রথমবার যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এনএসি প্রথমবার মেলায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে, যদি ভবিষ্যতে আরো কিছু কোম্পানি আগ্রহ প্রকাশ করে, তখন এরকম মেলায় ইপিবিও প্রয়োজনীয় সহয়াতা করবে। গভমেন্টের সাপোর্ট থাকলে প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ অনেক কমে যাবে। তিনি বলেন, এই মেলা আমরা ফলো করবো, রেজাল্টটা কেমন হয়? ভবিষ্যতে যদি এই মেলাতে অংশগ্রহণ আরো বাড়ে ও আরো বেশি কোম্পানি যেতে চায়, তখন আমরা এটাকে ইপিবি’র ফেয়ার ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত করে নিবো।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment