জয়ের পাল্লা ঝুঁকে ছিল নিউ জিল্যান্ডের দিকে। মনে হচ্ছিল, গ্রুপ সেরা হয়েই সেমি-ফাইনালে পা রাখবে দলটি। কিন্তু শেষের ঝড়ে সব হিসাব এলোমেলো করে দিলেন উইল জ্যাকস ও রেহান আহমেদ। তাদের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে নিউ জিল্যান্ডের অপেক্ষা বাড়িয়ে গ্রুপ সেরা হলো ইংল্যান্ড।
সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচে ৪ উইকেটে জিতেছে হ্যারি ব্রুকের দল। নিউ জিল্যান্ডের ১৫৯ রান তারা পেরিয়ে গেছে তিন বল বাকি থাকতে।
একসময় ইংল্যান্ডের জয় মনে হচ্ছিল অনেক দূরের পথ। শেষ তিন ওভারে প্রয়োজন ছিল ৪৩ রান। গ্লেন ফিলিপসের ওভারে দুটি করে ছক্কা ও চারে ২২ রান নিয়ে ইংল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরান জ্যাকস ও রেহান।
মিচেল স্যান্টনারের পরের ওভারে ছক্কা ও চারে ১৬ রান নিয়ে সমীকরণ একদম সহজ করে ফেলেন তারা। শেষ ওভারে হেনরিকে চার মেরে ম্যাচও শেষ করে দেন জ্যাকস। ১৮ বলে এক ছক্কা ও চারটি চারে ৩২ রান করেন এই অলরাউন্ডার। সাত বলে দুই ছক্কা ও এক চারে ১৯ রান করেন রেহান।
অবিচ্ছিন্ন সপ্তম উইকেটে তাদের জুটিতে ১৬ বলে আসে ৪৪ রান।
এর আগে কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করে নিউ জিল্যান্ড। পাওয়ার প্লেতে দ্রুত রান তোলেন দুই ওপেনার টিম সাইফার্ট ও ফিন অ্যালেন।
তবে দুই ওপেনারের কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। সপ্তম ওভারে আদিল রাশিদের বলে সাইফার্ট (২৫ বলে ৩৫) স্টাম্পড হলে ভাঙে ৬৪ রানের উদ্বোধনী জুটি।
পরের ওভারে জ্যাকসের বলে ক্যাচ দেন অ্যালেন (১৯ বলে ২৯)। পরপর দুই ওভারে দুই ওপেনারকে বিদায় করে রানের চাকায় রাশ টানে ইংল্যান্ড।
দুই অঙ্ক ছুঁয়ে ফেরেন রাচিন রাভিন্দ্রা, দুটি চার মেরেই থেমে যান মার্ক চ্যাপম্যান। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মধ্যে পাল্টা আক্রমণে রানের চাকা সচল রাখেন ফিলিপস।
২৮ বলে এক ছক্কা ও চারটি চারে ৩৯ রান করেন ফিলিপস। আগের ম্যাচে রেকর্ড জুটি উপহার দেওয়া মিচেল স্যান্টনার ও কোল ম্যাককনকি এবার শেষ তিন ওভারে তেমন কোনো ঝড় তুলতে পারেননি, তবে দলকে দেড়শ রানে নিয়ে যান তারা।
ইংল্যান্ডের তিন স্পিনার রাশিদ, জ্যাকস ও রেহান নেন দুটি করে উইকেট।
রান তাড়ায় ইংল্যান্ডের শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথম দুই ওভারে বিদায় নেন দুই ওপেনার। ম্যাট হেনরির করা ইনিংসের প্রথম ওভারে ফেরেন ফিল সল্ট। লকি ফার্গুসনের পরের ওভারে শূন্য রানে তাকে অনুসরণ করেন জস বাটলার। দুই ব্যাটসম্যানই ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে।
তৃতীয় উইকেটে ৪৮ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন হ্যারি ব্রুক ও জ্যাকব বেথেল। পরপর দুই ওভারে তাদের হারিয়ে ফের চাপে পড়ে ইংল্যান্ড।
ফিলিপসের বলে ক্যাচ দেন অধিনায়ক ব্রুক। রাভিন্দ্রার বলে ছক্কার চেষ্টায় সীমানায় ফিলিপসের দুর্দান্ত ক্যাচ বিদায় নেন বেথেল (১৬ বলে ২১)।
টম ব্যান্টন ও স্যাম কারান দলকে একশ রানে নিয়ে যান। কিন্তু রানের গতিতে দম দিতে পারেননি তারা। ২২ বলে ২৪ রান করে কারানের বিদায়ে ভাঙে ৩৫ বলে ৪২ রানের জুটি।
সপ্তদশ ওভারে ব্যান্টনও ফিরে গেলে ম্যাচ ঝুঁকে পরে নিউ জিল্যান্ডের দিকে। কিন্তু, এরপরই ওই দুর্দান্ত জুটিতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন জ্যাকস ও রেহান।
তাতে সেমি-ফাইনালের জন্য অপেক্ষা বাড়ল নিউ জিল্যান্ডের। শেষ চারের আশা বেঁচে থাকল পাকিস্তানেরও। তবে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পাশাপাশি রান রেটে নিউ জিল্যান্ডকে পেছনে ফেলতে হবে তাদের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৫৯/৭ (সাইফার্ট ৩৫, অ্যালেন ২৯, রাভিন্দ্রা ১১, ফিলিসপ ৩৯, চ্যাপম্যান ১৫, মিচেল ৩, স্যান্টনার ৯*, ম্যাকনকি ১৪, হেনরি ১*; আর্চার ৩-১-২৪-০, ডসন ৪-০-৩২-১, কারান ১-০-১০-০, রাশিদ ৪-০-২৮-২, জ্যাকস ৪-০-২৩-২, বেথেল ১-০-১৩-০, রেহান ৩-০-২৮-২)
ইংল্যান্ড: ১৯.৩ ওভারে ১৬১/৬ (সল্ট ২, বাটলার ০, ব্রুক ২৬, বেথেল ২১, ব্যান্টন ৩৩, কারান ২৪, জ্যাকস ৩২*, রেহান ১৯*; হেনরি ২.৩-০-১৯-১, ফার্গুসন ২-০-১৪-১, স্যান্টনার ৪-০-২৯৮-০, ম্যাকনকি ১-০-১৩-০, ফিলিপস ৪-০-৪৩-১, রাভিন্দ্রা ৪-০-১৯-৩, সোধি ২-০-২১-০)
ফল: ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: ইশ সোধি


