ছক্কার রেকর্ড গড়ে ৬ উইকেটে ২৫৪ রানের পাহাড় গড়েছে উইন্ডিজ। জবাব দিতে নেমে ৩ ওভারে ২০ রানে ৩ উইকেট হারানোর পরই বোঝা গিয়েছিল জিম্বাবুয়ের পরিণতি। শেষ পর্যন্ত ১৪৭ রানে অলআউট হয় তারা। ১০৭ রানের বড় জয় দিয়ে সুপার এইট শুরু করেছে উইন্ডিজ।
এবারের আসরে এটাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্কোর। আর টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অল্পের জন্য ১৯ বছর আগে শ্রীলঙ্কার গড়া রেকর্ডটি ভাঙতে পারেনি উইন্ডিজ। ২০০৭ বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার ২৬০ রান সর্বোচ্চ। ক্যারিবীয়রা সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়তে না পারলেও টি২০ বিশ্বকাপে ১৯টি ছয় মারার রেকর্ড ঠিকই স্পর্শ করেছেন। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। এরপরও আক্ষেপে পুড়তে হবে ক্যারিবীয়দের। আর মাত্র একটি ছয় হলেই একটি রেকর্ড স্পর্শ করতেন এবং আরেকটি রেকর্ড এককভাবে নিজেদের দখলে নিতে পারতেন।
এমন সুযোগ তো বার বার আসে না! উইন্ডিজের এই ছক্কাবৃষ্টির মূল কারিগর হলেন শিমরন হেটমায়ার এবং রোভম্যান পাওয়েল। এরমধ্যে হেটমায়ার ৩৪ বলে ৭টি করে ছয় ও চারে ৮৫ রান করে মূল ভূমিকা রাখেন। আর ৩৫ বলে ৪টি করে ছয় ও চার মেরে ৫৯ রান করে পার্শ্বনায়কের ভূমিকায় ছিলেন পাওয়েল। এছাড়া শেরফান রাদারফোর্ড ১৩ বলে ২ ছক্কায় ৩১, রোমারিও শেফার্ড ১০ বলে ৩ ছক্কায় ২১ এবং জেসন হোল্ডার ৪ বলে ২ ছক্কায় ১৩ রান করেন।
তবে আলাদা করে বলতে হবে হেটমায়ারের কথা। ৯ রানের সময় মুজারাবানির বলে তাঁর লোপ্পা ক্যাচ তালুবন্দি করতে পারেননি তাশিঙ্গা মুসেকিওয়ার। জীবন পেয়ে বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন হেটমায়ার। ছক্কার ঝড় তুলে ১৯ বলে হাফ সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান তিনি। এবারে আসরে এটি যৌথভাবে দ্রুততম ফিফটি। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার এইডেন মার্করাম ও শ্রীলঙ্কার দাসুন শানাকা ১৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। ৭০ রানের সময় আবারও ক্যাচ দিয়েছিলেন হেটমায়ার। কাকতালীয়ভাবে এবারও ক্যাচটি ধরতে পারেননি মুসেকিওয়ার। দ্বিতীয় জীবনের অবশ্য পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করতে পারেননি ২৯ বছর বয়সী হেটমায়ার। এরপর আর ১৫ রান যোগ করে আবার সীমানায় ক্যাচ তোলেন। ক্রেমারের বলে এবার মিস করেননি বেনেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ২৫৪/৬ (হেটমায়ার ৮৫, পাওয়েল ৫৯, রাদারফোর্ড ৩১*, শেফার্ড ২১; মুজারাবানি ২/৪২, এনগারাভা ২/৪৭)।
জিম্বাবুয়ে: ১৭.৪ ওভারে ১৪৭ (ইভান্স ৪৩, মায়ার্স ২৮, রাজা ২৭; মোতি ৪/২৮, আকিল ৩/২৮, ফোর্ড ২/২৭)।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১০৭ রানে জয়ী।


