সাত দিন হলো ছোট ছেলে নাবিল নাসির কুশলের খোঁজ পাচ্ছেন না এক সময়ের বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের দাপুটে অভিনেত্রী নাসিমা খান। ছেলেকে না পেয়ে পেয়ে তিনি এখন পাগলপ্রায়।
জানা গেছে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আশুলিয়া থানাধীন ভাদাইল এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেনি কুশল। মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ মেলেনি। ১৪ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়া থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়।
নাসিমা খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘১১ তারিখে শার্ট পরে ঘর থেকে বের হলো। সেটাই শেষ দেখা, আর আমার বাবাটার খোঁজ পাচ্ছি না। আমি আমার ছেলের সন্ধান চাই।’
নাসিমা খান জানান, তার ছেলে নাবিল নাসির কুশল সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। তবে এর আগে কখনো এমনভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
অভিনেত্রীর আশঙ্কা, মানসিক সমস্যার কারণে কুশল হয়তো নিজের ঠিকানা স্পষ্ট করে বলতে পারবে না। তার তো একটু সমস্যা আছে, সাভারের নিজের বাড়ির ঠিকানা হয়তো বলতে পারবে না; কিন্তু নিজের নাম বলতে পারবে।
নাসিমা খানের দুই ছেলে। বড় ছেলে, ডাকনাম উপল, পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন এবং বর্তমানে সেখানেই একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। গত ডিসেম্বরেই অল্প কয়েক দিনের ছুটিতে দেশে এসে মায়ের সঙ্গে সময় কাটিয়ে গেছেন তিনি।
পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়, কেউ নাবিল নাসির কুশলের সন্ধান পেলে আশুলিয়া থানায় অথবা পরিবারের সঙ্গে যেন যোগাযোগ করেন।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রথম দিকের অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম নাসিমা খান। ১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক। পরে ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তিনি জনপ্রিয়তা পান। ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ। সবশেষ ২০১১ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এর ছবি ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ সিনেমায় দেখা যায় অভিনেত্রীকে।


