ময়মনসিংহে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার অভিযোগ, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ৩ জনকে অব্যাহতি

ময়মনসিংহ–১১ (ভালুকা) আসনের একটি কেন্দ্রে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার ঘটনায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও দুই পোলিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ হোসেন।

উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকে ভোটারদের প্রকাশ্যে ভোট দিতে বাধ্য করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি। ভোটারদের ব্যালট নিয়ে গোপন কক্ষে না গিয়ে প্রকাশ্যেই সিল মেরে ব্যালট বাক্সে ফেলতে দেখা যায়।

প্রকাশ্যে ভোট না দিলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন দীপালি আক্তার নামের এক নারী ভোটার। তিনি বলেন, ভোট দিতে গেলে তাঁকে বলা হয়, তিনি কোথায় ভোট দিচ্ছেন, তা নজরে রাখা হচ্ছে। নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট না দিলে তাঁদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হতে পারে, এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

দীপালির ভাষ্য, ‘তাঁরা দেখতেছে, আমরা ভোট কই দেই, তাইলে এখানে গোপনে ক্যারে; পর্দা দিছে কেরে—ভোট দোহায়া দিবার লাইগ্যা? যার যেহান ইচ্ছা, হেইনে ভোট দিব।’

কংশেরকুল উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ছয়টি বুথ আছে। মোট ভোটারসংখ্যা ২ হাজার ৮৭৬। এর মধ্যে নারী ও পুরুষ ভোটার সমান, ১ হাজার ৪৩৮ জন করে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রথম দুই ঘণ্টায় ৪৩০টি ভোট পড়ে। পরে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ৯২০টি।

এই আসনে পাঁচ প্রার্থী থাকলেও সব প্রার্থীর এজেন্ট কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন না। বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদের এজেন্টরা সব বুথে থাকলেও দুটি বুথে এনসিপি ও একটি বুথে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের এজেন্ট ছিলেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্ট এশফাকুর রহমান অভিযোগ করেন, সকালে কেন্দ্রে গেলে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকেরা তাঁদের ছয় এজেন্টকে মারধর করে

তবে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, ভোট শুরুর সময় ধানের শীষ ও ট্রাক প্রতীকের এজেন্ট ছিলেন। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও এনসিপির এজেন্ট যোগ দেন। এজেন্টদের বের করে দেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার ঘটনাও দেখেননি তিনি।

জানতে চাইলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ হোসেন বলেন, ভোট গোপনে দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও দুই পোলিং কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment