বিআরটিএ-র ‘আলাদিনের চেরাগ’ এডি জিয়া: সালমান এফ রহমানের আশীর্বাদে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মিরপুর থেকে খিলক্ষেত—বিআরটিএ-র অলিতে গলিতে এখন একটিই নাম ‘জিয়াউর রহমান’। সাধারণ এক মেকানিক থেকে বিআরটিএ-র সহকারী পরিচালক (লাইসেন্স) বনে যাওয়া এই কর্মকর্তার যেন হাতে লেগেছে ‘আলাদিনের চেরাগ’। সাবেক স্বৈরাচার সরকারের প্রভাবশালী উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সরাসরি তদবিরে ক্ষমতাধর হওয়া এই কর্মকর্তা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও রয়েছেন বহাল তবিয়তে। বরং অভিযোগ উঠেছে, পটপরিবর্তনের পর তার দুর্নীতির মাত্রা কয়েক গুণ বেড়েছে।
মেকানিক থেকে প্রভাবশালী এডি:
উল্কাসম উত্থানঃ
অনুসন্ধানে জানা যায়, জিয়াউর রহমানের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল মিরপুর বিআরটিএ-তে একজন সাধারণ মেকানিক হিসেবে। তবে চাতুর্য আর লবিংয়ের মাধ্যমে দ্রুতই পদোন্নতি পেয়ে হন ইন্সপেক্টর। এরপর নরসিংদীতে পোস্টিং নিয়ে গিয়ে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। সেখান থেকেই সহকারী পরিচালক (এডি) হিসেবে পদোন্নতি বাগিয়ে পুনরায় ফেরেন মিরপুরে।
সূত্র বলছে, মিরপুরে তৎকালীন সময়ে একজন এডি কর্মরত থাকা সত্ত্বেও সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিশেষ সুপারিশে জিয়াকে সেখানে পদায়ন করা হয়। সেই থেকেই শুরু হয় তার সীমাহীন দাপট।
বসুন্ধরায় রাজকীয় বাড়ি ও সম্পদের পাহাড়ঃ
বিআরটিএ-র সাধারণ বেতনের একজন কর্মকর্তার জীবনযাত্রা দেখলে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এফ ব্লকের ৯ নম্বর রোডের ১৩ নম্বর সড়কের ৪১৩ নম্বর বাড়িতে তার রাজকীয় বসবাস। এছাড়া নামে-বেনামে রয়েছে অসংখ্য ফ্ল্যাট ও প্লট। জানা গেছে, শুধু ঢাকাতেই নয়, গ্রামের বাড়িতেও তিনি গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। বিআরটিএ-র লাইসেন্স বাণিজ্য আর অনিয়মের মাধ্যমেই এই বিশাল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন তিনি।
সরকারি গাড়ি ও দম্ভোক্তিঃ
জিয়াউর রহমান সার্বক্ষণিক একটি ব্যক্তিগত গাড়ি (ঢাকা মেট্রো গ ১৬-১৪১৭) ব্যবহার করেন, যার উৎস নিয়েও জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার আমলেও দাপটঃ
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পর বিআরটিএ-র অনেক রাঘববোয়াল আত্মগোপনে গেলেও জিয়াউর রহমান রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ আছে, বর্তমান সরকারের উচ্চমহলের কিছু ব্যক্তিকে ‘ম্যানেজ’ করে তিনি তার চেয়ার ধরে রেখেছেন এবং পূর্বের তুলনায় আরও বেপরোয়াভাবে লাইসেন্স বাণিজ্যে লিপ্ত হয়েছেন।
বিআরটিএ-র মতো একটি সেবামূলক সংস্থায় এমন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কীভাবে এখনো টিকে আছেন, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বর্তমান প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের দাবি—এই ‘মেকানিক জিয়া’র অবৈধ সম্পদের উৎস তদন্ত করে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

এ বিষয়ে বিআরটিএ এর উপ পরিচালক জিয়াউর রহমানের বক্তব্য জানতে অফিসে না পেয়ে তার ব্যবহৃত ফেন নাম্বারে একাধিক বার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment