বিশেষ প্রতিনিধি:
বছরের পর বছর নিপীড়ন, হামলা-মামলা, জেল, সম্পত্তি লুটপাট, এমনকি বাবার মৃত্যুঝুঁকি- বৃদ্ধা মায়ের অসুস্থতা কিছুই থামাতে পারেনি মশিউর রহমান যাদুর রাজনৈতিক অঙ্গীকার। বাগেরহাট-১ আসনের এই তরুণ নেতৃত্ব আজ এলাকাবাসীর কাছে শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী নন- তিনি অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক দৃঢ় মনোভাব, শান্তির বার্তাবাহক এবং পরিবর্তনের প্রতীক।
দীর্ঘ ১২ বছর নিজের গ্রামে ফিরতে পারেননি ‘আওয়ামী সরকারের’ হামলা-মামলার কারণে। মা-বাবা, ভাই-বোন, শিশুবেলার বন্ধুর- কাউকে নিঃশব্দে দেখে যেতে পারেননি। এলাকার মানুষের খোঁজ নিতে হলে, কিংবা কারও চিকিৎসার প্রয়োজন হলে, গ্রামের মানুষ খুলনায় এলে তিনিই ছিলেন তাদের সেবক।
“আমাকে কেউ ডেকে পায়নি- এমন দিন আমার জীবনে নেই,” বলছেন যাদু।
পাঁচবার স্ট্রোক, দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়া বাবা- তবু রাজনীতি ছাড়তে বলেননি কখনো
২০১৯ সালে বাবার মৃত্যুশয্যায় গ্রামে ফিরে যান প্রায় এক যুগ পর। ততদিনে বাবা পাঁচবার স্ট্রোক করেছেন- মূলে ছিল সন্তানের উপর হামলা-মামলা এবং তার অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়াবহ দুশ্চিন্তা।
তবুও সেই বাবা ছেলেকে কখনো বলেননি, “রাজনীতি ছেড়ে দাও।”
বরং বলতেন–
“মানুষের পাশে থাক; আল্লাহ তোমার পথ খুলে দিবে।”
বাবার এই দীক্ষা আজ যাদুকে তৈরি করেছে আরো সংযত, মানবিক ও ধৈর্যশীল এক রাজনৈতিক চরিত্রে।
জমি-দোকান দখল- সবই সহ্য করেও শান্তি নষ্ট হতে দেননি
দলের কর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে শুনতে হয়েছে হুমকি, দেখতে হয়েছে দলীয় অফিস ভাঙচুর, সহ্য করতে হয়েছে নিজের ঘের, জমি ও দোকানঘর দখল হওয়ার যন্ত্রণা।
এলাকার মানুষ জানে- যাদুর পরিবারের সম্পত্তি দখল করে নিয়েছিল আওয়ামী দোসররা।
কিন্তু হাসিনা পলায়নের পরও তিনি কখনো প্রতিশোধে যাননি।
যাদু নিজেই বলেন-
“আমি দখলকৃত জায়গায় আজও যাইনি। এলাকার শান্তিই আমার কাছে বড়।”
এই একটিমাত্র আচরণই প্রমাণ করে- তার নেতৃত্ব প্রতিহিংসার নয়, বরং শান্তি, সহনশীলতা ও রাজনৈতিক পরিপক্বতার প্রতীক।
এলাকাবাসীর বিশ্বাস- এখনই সময় নতুন নেতৃত্বের
বাগেরহাট-১ এ মানুষের ভাষায়—
“যাদু মাঠে থাকে, ঘরে নয়”
“হামলা-মামলা, জুলুম- সব দেখে এসেছে”
“নেতা হলে প্রতিশোধ নয়, শান্তি বাড়বে”
“ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত পরিশ্রম থামেনি”
“ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের কাছে যায়”
হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের সাথে তার আত্মিক সম্পর্ক সুদৃঢ়। দুর্গাপূজার মণ্ডপ থেকে শোকের ঘর- সব জায়গায় তাকে দেখা গেছে।
বিএনপি কেন বাগেরহাট-১ এ মশিউর রহমান যাদুকে মনোনয়ন দেবে- সুস্পষ্ট পাঁচটি কারণ-
১. দীর্ঘমেয়াদি মাঠের অভিজ্ঞতা
জেল-জুলুম, মামলা, হয়রানি- সব সময় মাঠে সক্রিয় থেকেছেন। মানুষের পাশে তার অবস্থান ছিল অবিচল।
২. ব্যক্তিগত ক্ষতি সহ্য করেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা
যে নেতা দখলকারীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নয়, বরং শান্তি বেছে নেন- তার উপর মানুষের আস্থা স্বাভাবিকভাবেই বেশি।
৩. প্রযুক্তিনির্ভর, শিক্ষিত, আধুনিক নেতৃত্ব
বর্তমান যুগে দলকে সংগঠিত করতে টেকনোলজি অপরিহার্য- এখানে যাদু বিএনপির জন্য বড় সম্পদ।
৪. তরুণদের অনুপ্রেরণা- জনসংযোগে অপ্রতিদ্বন্দ্বী
গ্রাম-গঞ্জ, খেলাধুলা, সামাজিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় উৎসব- সব জায়গায় তার গ্রহণযোগ্যতা চোখে পড়ার মতো।
৫. পরিবারিক ত্যাগ ও দলের প্রতি অটল আনুগত্য
যে পরিবার দলের জন্য সর্বস্ব হারিয়েছে, সেই পরিবারের সন্তানকে মনোনয়ন দিলে জনগণের আবেগও দলের পক্ষে থাকবে।
মশিউর রহমান যাদুর জীবন শুধু রাজনীতি নয়- এটি আহত এক সময়ের ইতিহাস, ত্যাগের গল্প, ধৈর্যের পাঠ, এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সৎ সাহসের দলিল।
বাগেরহাট-১ আসনে পরিবর্তন, শান্তি, স্বচ্ছ নেতৃত্ব ও তরুণশক্তির প্রতিনিধিত্ব চাইলে- মনোনয়নের উপযুক্ত প্রার্থী তিনিই।
ধর্ম, বর্ণ, সকল শ্রেনী-পেশার মানুষের কাছে মশিউর রহমান যাদু সমান গ্রহণযোগ্য মানবিক এক মানুষ।
এক প্রশ্নের উত্তরে যাদু বলেন-
“আমি একমাত্র শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারের প্রতি আনুগত্য, জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী, দলের হাইকমান্ড আমাকে যেখানে যে কাজের উপযুক্ত মনে করবেন, আমি তাই করতে প্রস্তুত। দল করি, বলেই দলের সিদ্ধান্তই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান। নিজ এলাকার মানুষের খেদমত করার চেষ্টা করি। স্বপ্ন দেখি লক্ষ্যে পৌছুতে, আল্লাহ সুযোগ করে দিলে নিজের যোগ্যতার প্রমান দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ।”


