সোহেল হাওলাদার
বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি, উন্নত জীবনযাপন এবং দ্রুত আয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশে পাঠানোর আড়ালে ভয়াবহ মানবপাচারের অভিযোগ সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য—কিছু বাংলাদেশিকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে পরবর্তীতে ইউক্রেন যুদ্ধের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা Fortify Rights ও Truth Hounds–এর এক যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক বাংলাদেশিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী বা অন্যান্য বেসামরিক কাজের আশ্বাস দিয়ে বিদেশে নেওয়া হয়। পরে তাদের এমন ভাষায় নথিপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়, যা তারা বুঝতে পারেননি। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নথিগুলোর কিছু ছিল সামরিক চুক্তিসংক্রান্ত।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের প্রক্রিয়ায় অন্তত ১০০-এর বেশি বাংলাদেশি জড়িত হওয়ার তথ্য শনাক্ত হয়েছে। একইসঙ্গে অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যুর তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যদিও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে কিছু ব্যক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ হয়ে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় কিংবা পর্যটন ভিসার অপব্যবহার করা হয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এটি শুধুমাত্র প্রতারণার ঘটনা নয়; বরং আন্তর্জাতিক মানবপাচারের একটি গুরুতর রূপ হতে পারে।
আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ইউরোপের কয়েকটি সংস্থা ও বিভিন্ন পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী অভিযোগ করেছে, আর্থিকভাবে দুর্বল এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে চাকরির নামে প্রলোভন দেখিয়ে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদনবিহীন দালাল, অজানা প্রতিষ্ঠান অথবা যাচাইবিহীন নিয়োগ সংস্থার মাধ্যমে যাওয়া বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা বিদেশগামীদের যথাযথ যাচাইকৃত নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ডেইলি পূর্বাচলের অনুসন্ধানী পর্যবেক্ষণ:
যদি চাকরির নামে বাংলাদেশি নাগরিকদের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পাঠানোর অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তবে এটি শুধু প্রতারণা নয়; বরং মানবাধিকার, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পাশাপাশি মানবপাচার চক্র শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

