আপনার সন্তান পর্নোগ্রাফি আসক্ত কি না বুঝবেন যেভাবে

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির কল্যাণে বড়-ছোট নির্বিশেষে সবার কাছেই ইন্টারনেট অত্যন্ত সহজলভ্য। নেট দুনিয়ায় এক ক্লিকেই যেমন জ্ঞানের বিশাল ভাণ্ডার উন্মোচিত হয়, তেমনি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে মারাত্মক কিছু নেতিবাচক দিক। ইন্টারনেটের এই অন্ধকার জগতের কিছু বিপজ্জনক কনটেন্ট বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের প্রাণবন্ত শৈশবকে কেড়ে নিচ্ছে। বিশ্বজুড়ে ‘চাইল্ড পর্নোগ্রাফি’ বা শিশু পর্নোগ্রাফি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও মোবাইল, ট্যাবলেট বা কম্পিউটারের মাধ্যমে অনেক শিশু-কিশোর এতে প্রবেশ করছে। ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে শিশুদের মানসিক বিকাশ ও ভবিষ্যৎ।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অনেক সময় সন্তানরা কৌতূহলবশত বা বন্ধুদের প্ররোচনায় পর্নোগ্রাফির মতো মরণনেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে, যা অভিভাবকরা সময়মতো টের পান না। তবে কিছু সুনির্দিষ্ট আচরণগত পরিবর্তন লক্ষ্য করলে সহজেই বোঝা সম্ভব সন্তান এই আসক্তিতে ভুগছে কি না।

হঠাৎ আচরণে পরিবর্তন ও আড়াল করার প্রবণতা: সবসময় হই-হুল্লোড় করে বেড়ানো প্রাণবন্ত সন্তানটি যদি হঠাৎ করেই চুপচাপ বা অন্তর্মুখী হয়ে যায়, তবে সতর্ক হতে হবে। কিশোর বয়সে নিষিদ্ধ কিছুর নেশায় জড়ালে পরিচিত ও আপন মানুষদের সামনে তাদের চোখে-মুখে ও ভাবভঙ্গিতে এক ধরণের আড়াল করার বা লুকিয়ে রাখার স্পষ্ট আভাস দেখা যায়।

ডিভাইসের প্রতি অতিরিক্ত গোপনীয়তা: সন্তান যদি দিন-রাত সবসময় ফোন বা কম্পিউটারে মগ্ন থাকে এবং নিজের ব্যবহৃত ফোনটি সবসময় পাসওয়ার্ড দিয়ে লক করে রাখে, তবে তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে বাবা-মা বা পরিবারের কাউকে ফোনটি ধরতে দিতে না চাওয়া কিংবা ফোন হাতে নিলেই অস্বস্তিতে পড়ার আচরণ পর্ন সাইট ব্যবহারের দিকটি নির্দেশ করতে পারে।

গভীর রাত পর্যন্ত ইন্টারনেটে থাকা: সন্তান যদি পড়াশোনার অজুহাতে বা অন্য কোনো উসিলায় গভীর রাত পর্যন্ত জেগে ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করে, তবে সেটি আসলেই পড়াশোনার জন্য কি না, তা অভিভাবকদের খতিয়ে দেখা জরুরি।

হঠাৎ স্ক্রিন বন্ধ বা পেজ পরিবর্তন করা: ঘরের ভেতর অন্য কাউকে ঢুকতে দেখলেই কি সন্তান তাড়াহুড়ো করে ল্যাপটপ বন্ধ করে দেয় কিংবা কম্পিউটারে দ্রুত অন্য কোনো সাধারণ পেজ বা ট্যাব খুলে বসে? এই ধরণের চটজলদি লুকিয়ে ফেলার ভাবভঙ্গি আসক্তির একটি বড় লক্ষণ।

অস্বাভাবিক নির্জনতা ও মেজাজ হারানো: বন্ধুদের সাথে হঠাৎ করে অনুচ্চ স্বরে বা ফিসফিস করে আলোচনা করা, দল বেঁধে একান্তে সময় কাটানো কিংবা সামান্য বিষয়েই অতিরিক্ত মেজাজ খিটখিটে হওয়া আসক্তির লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় পর্নোগ্রাফির মানসিক অস্থিরতা থেকে সন্তান নিজের মন-মেজাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং বয়ঃসন্ধিকালীন অপ্রতিরোধ্য বা অবাধ্য মনোভাব তৈরি হয়।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ডিভাইসে নজরদারি রাখাই যথেষ্ট নয়। যদি সন্তানের মধ্যে স্ক্রিনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি বা উপরোক্ত লক্ষণগুলো দেখা যায়, তবে সবার আগে তার সাথে দূরত্ব কমিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। রেগে না গিয়ে বা মারধর না করে সন্তানের সাথে সরাসরি ও সংবেদনশীলভাবে কথা বলা উচিত। প্রয়োজনে ডিভাইস ব্যবহারে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া এবং ঘরের উন্মুক্ত স্থানে কম্পিউটার ব্যবহারের নিয়ম চালু করা যেতে পারে। আসক্তি গুরুতর রূপ নিলে অভিজ্ঞ কাউন্সিলর বা শিশু মনোবিজ্ঞানীর শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 1   +   6   =